প্যারিসে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পেট্রলবোমা হামলা: হত্যাচেষ্টার তদন্ত শুরু ফ্রান্সে
ফ্রান্সের প্যারিসে বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় হত্যাচেষ্টার তদন্ত শুরু করেছেন কৌঁসুলিরা। আগুনে পুড়তে থাকা এক কর্মকর্তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ তৈরি হওয়ার পর রোববার এই তদন্তের ঘোষণা আসে।
প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচার জানিয়েছে, কয়েক শ দাঙ্গাকারী মলোটভ ককটেলসহ নানা বস্তু ছুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। কৌঁসুলিদের কার্যালয় বলেছে, প্রায় ১৫ জন জান্দার্ম (সামরিক পুলিশ) ও পুলিশ কর্মকর্তার দিকে বিস্ফোরক যন্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
শনিবার প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও অবনতিশীল জনসেবার বিরুদ্ধে তৃতীয় সপ্তাহান্তের বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়; সেদিনই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভের ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, সুরক্ষামূলক পোশাক পরা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার পায়ের কাছে ঘরে তৈরি একটি বিস্ফোরক যন্ত্র বিস্ফোরিত হয় এবং আগুনে তাঁর শরীরের নিম্নাংশ ঢেকে যায়।
কৌঁসুলিরা বলেছেন, ‘জনকর্তৃত্বে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। আহতদের মূল্যায়ন চলছে এবং জানানো আঘাতগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় মাত্রার পোড়া ক্ষত রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
আঘাত পাওয়া জান্দার্মটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএলকে বলেছেন, তাঁর ইউনিট ‘আক্রমণের মুখে’ ছিল; তাদের দিকে কাচের বোতল, পাথরের টুকরো, কাচখণ্ড ও আগুনবোমা ছোড়া হচ্ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিস্ফোরক যন্ত্রের আঘাত পেয়েছি। দাহ্য পদার্থটি এত চটচটে ছিল যে আমি ত্বকের ওপর তা ছড়িয়ে পড়তে অনুভব করছিলাম। আমি বারবার ভাবছিলাম, কখন এটা থামবে, কারণ আমি সত্যিই অনুভব করছিলাম তাপ আমাকে আবরণ করে ফেলেছে।’ সামান্য আঘাত পাওয়া এই কর্মকর্তা বলেন, তাঁর দাঙ্গা-পোশাকের পা ও পায়ের পাতার সুরক্ষা অংশ গলে গেছে।
আরটিএলের বরাতে জান্দার্মেরি জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তার ইউনিটের ১৩ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
কৌঁসুলি কার্যালয় বলেছে, এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে ‘এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি’; তদন্তকারীরা দায়ীদের শনাক্তের কাজ করছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্রান্সজুড়ে ৭৭০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ ও হ্যালোইন উদ্যাপনের সময় মোট ১৫৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় দাঙ্গা এবার কম বিস্তৃত ছিল; সেবার ফ্রান্স সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে ভয়াবহ অশান্তির কিছু ঘটনা দেখেছিল। তবু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোরাঁ নুনিয়েজ শনিবার বলেন, কারও কারও সহিংসতার মাত্রা ছিল ‘অসাধারণ’।
ছয় মাস পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। অতি-ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের নেত্রী মারিন ল্য পেন এক্সে বলেছেন, আগুনবোমা হামলার দায়ীদের ‘সর্বোচ্চ কঠোরতায় শাস্তি’ দিতে হবে।




