‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতকদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য বললেন প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়, উপস্থিত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো রায় হচ্ছে না—জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক বলেন, সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের সাজা কার্যকর করা সম্ভব নয়, ট্রাইব্যুনাল এ রকম কিছু মামলার বিচার করছে। এটি আদালত অবমাননার মধ্যে পড়ে কি না?
জবাবে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, কোনটি আদালত অবমাননা, সেটি ট্রাইব্যুনাল বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যেটা বলেছেন যে একজন রাজনৈতিক নেতা, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়। উপস্থিত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো রায় হচ্ছে না। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমরা এই কথাকে সম্পূর্ণভাবে অসত্য মনে করি।’
এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এই প্রসিকিউটর বলেন, পলাতক আসামির বিচারে সাধারণত রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীরা থাকেন। তাঁরা প্রসিকিউশনের দেওয়া নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করেন।
আর যিনি উপস্থিত আসামি, তিনি একাধিক আইনজীবীর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করেন। তাঁরা বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করেন। আসামি নিজে উপস্থিত থেকে তাঁর আইনজীবীকে নির্দেশনা দেন। যার কারণে মামলা বিলম্বিত হয়, একটু লম্বা সময় ধরে বিচার চলে। তার মানে এই নয়, এখানে কোনো উপস্থিত আসামির বিচার হচ্ছে না। এটি ঠিক নয়।
কয়েকজন উপস্থিত আসামির মামলা একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার। তিনি বলেন, উপস্থিত আসামির মামলা শেষ হতে একটু সময় লাগে। পলাতক আসামিদের মামলাগুলো একটু দ্রুত শেষ হয়।
উপস্থিত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলার বিচার শেষের দিকে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
এদিকে আদালত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ৪ নভেম্বর সশরীর হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল স্বপ্রণোদিত হয়ে রোববার এই আদেশ দেন। ব্রিফিংয়ে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার।



