প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিতে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আবু বকর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ঢাকায় ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি দিয়ে করা একটি পোস্টে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’—এমন মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সাত দিনের রিমান্ড শেষে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আবু বকরকে রোববার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন পাইক। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানালে তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াছিন পাইক বলেন, আসামি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
ইয়াছিন পাইক আরও বলেন, রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়। বেলা তিনটার দিকে তিনি জবানবন্দি দেন। এ মামলায় আবু বকর সিদ্দিক একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁর কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি রয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর আবু বকর সিদ্দিককে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে হত্যার চক্রান্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এ ঘটনার পেছনে কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও অনুসন্ধান করা দরকার।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, চক্র বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কোনো চক্র বা পরিকল্পনাকারীর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টের শিরোনামে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো।’
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী আবু বকর সিদ্দিককে শনাক্ত করে রাজশাহীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বাবার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ফোনটি থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্য করার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।


