রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকার পল্লবী থানায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ চার দিনের রিমান্ডে

ঢাকার পল্লবী থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বকর ছিদ্দিক রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত সাত দিনের বদলে চার দিনের রিমান্ড দেন।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাসহ অন্য আসামিদের সহায়তায় সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আ. আজিজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে তিনি লিপ্ত রয়েছেন।
আসামি ফেসবুকের ‘Khondokar A Hafiz’ আইডিসহ বিভিন্ন পেজের সঙ্গে যুক্ত থেকে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমেও তারা সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, সংগঠনটির কাজ দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনবলে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানো। এসব অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত থাকায় ছয়টি কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষে হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষে জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামিরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, কাজী গুলশান আরা ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। আসামিদের সহযোগী ১০১ জনকে নিয়ে ‘সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।



