তাহসিফ হত্যা মামলায় বান্ধবী দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর, সিসিটিভি ফুটেজে মিলেছে একসঙ্গে যাতায়াতের দৃশ্য

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরিকে হত্যা ও মরদেহ গুমের চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তার তরুণী জেরিকা তাসনিম দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। আদালত শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং উত্তরার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে দিশার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ এবং একই দিন সন্ধ্যায় ডিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে নিহত তাহসিফের সঙ্গে দিশাও ছিলেন। রাত ১০টা ১৭ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তারা একই মোটরসাইকেলে ওই বারে যাতায়াত করেন। পরে দুজনকে একসঙ্গে সেখান থেকে বের হতেও দেখা যায়। এমনকি একটি গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের একসঙ্গে যাতায়াতের দৃশ্য ধরা পড়েছে।
মামলার বাদী ও নিহত তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর ‘দীপ’ নামের এক জুনিয়র বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাত গভীর হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় তাঁর মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করেন। এ সময় তাহসিফ দ্রুত বাসায় ফিরবেন বলে জানান।
পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে মায়ের ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান তিনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। তবে এরপর আর বাসায় ফেরেননি তাহসিফ।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থানা-পুলিশ ও নৌ-পুলিশের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, রাজারবাড়ি ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৯ অক্টোবর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে এই মামলার অপর আসামি শাহরিয়ার রেজা দীপকে মোহাম্মদপুর থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তিনি চার দিনের রিমান্ডে নৌ-পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ভূমিকা উদ্ঘাটনে দিশাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।




