একটিও পাস সফল না করেই জিতল টাম্পা বে: ১৯৭৪ সালের পর এনএফএলে প্রথম এমন ঘটনা

একটিও পাস সফল না করেই ম্যাচ জিতল টাম্পা বে বুকানিয়ার্স—আধুনিক এনএফএলে এমন ঘটনা অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম। রবিবার বৃষ্টিভেজা ও কাদামাখা মাঠে আটলান্টা ফ্যালকনসকে ১৬–০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। টাম্পার রেমন্ড জেমস স্টেডিয়ামে খেলাটি হয়েছে অবিরাম বৃষ্টি আর বাতাসের মধ্যে।
বুকানিয়ার্সের কোয়ার্টারব্যাক বেকার মেফিল্ড ম্যাচে মোট তিনবার পাস ছোড়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু একটিও সফল হয়নি। পাস না করে দলটির জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছে মাটির খেলা: দৌড়ে তারা তুলেছে ক্লাবের নতুন রেকর্ড ৩২৪ গজ।
সুপার বোল যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো দলের একটিও পাস সফল না করার ঘটনা এর আগে ঘটেছিল মাত্র একবার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বাফেলো বিলস সেই ম্যাচটি খেলেছিল; সেবার কোয়ার্টারব্যাক জো ফার্গুসন দুইবার পাসের চেষ্টা করেও সফল হননি, আর ও. জে. সিম্পসন দৌড়ে তুলেছিলেন ১১৭ গজ।
এবারের ম্যাচে বুকানিয়ার্সের দৌড়ের আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন দুজন। বাকি আরভিং তুলেছেন ১৭০ গজ, প্রতি প্রচেষ্টায় গড়ে ৬.৩ গজ; কেনেথ গেইনওয়েল তুলেছেন ১৪০ গজ, প্রতি প্রচেষ্টায় গড়ে ৫.৬ গজ।
ম্যাচের পর প্রধান কোচ টড বোলসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি তাঁর অফেন্সিভ কো-অর্ডিনেটর বা মেফিল্ডকে আগেই জানিয়েছিলেন কি না যে বল বেশি ছোড়া হবে না। বোলসের জবাব ছিল, ‘পরিস্থিতিই তাঁকে তা বলে দিয়েছিল। ওখানে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল, বাতাস বইছিল—বল যে কোথাও যাচ্ছে না, তা দেখাই যাচ্ছিল।’
মেফিল্ড নিজেও পরিস্থিতি নিয়ে রসিকতা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে, এটা তাড়াতাড়ি শেষ করা যাক, কারণ আপনারা আমার সঙ্গে কথা বলতে চান না।’ একটি খেলায় তিনি লিড ব্লকিংয়ে (সামনে থেকে পথ আটকে সঙ্গীকে এগিয়ে দেওয়া) নেমেছিলেন—সে প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘বল ছুড়তে না পারলে কোনো না কোনোভাবে সক্রিয় হতেই হয়।’
অন্যদিকে ফ্যালকনস পাসের চেষ্টা চালিয়ে বিপদে পড়েছে। তাদের কোয়ার্টারব্যাক মাইকেল পেনিক্স জুনিয়র ২৪টি পাসের চেষ্টায় সফল হয়েছেন মাত্র ৮টিতে, আর তাঁর চারটি পাস ধরে ফেলেছে প্রতিপক্ষ (ইন্টারসেপশন)। বুকানিয়ার্স সেই পথে না গিয়ে দৌড়ের খেলাতেই মাঠ জুড়ে আধিপত্য ধরে রেখেছে।
আরভিং আবহাওয়া নিয়ে তাঁর নির্লিপ্ত মনোভাবের কথাও জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ফুটবল ম্যাচের জন্য তিনি শেষ কবে আবহাওয়া দেখেছেন, তা তিনি জানেন না; বৃষ্টি, তুষার বা কাদা—যাই হোক, তাতে খেলতেই হবে।
এই জয়ে এনএফসি সাউথ বিভাগে বুকানিয়ার্স নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আর স্কোরলাইনের চেয়ে ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে এর অদ্ভুত পরিসংখ্যানের জন্যই—একটিও সফল পাস ছাড়া জয়, যা এনএফএল দেখল ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার।




