বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, চার বন্দরে ২ নম্বর সংকেত; নভেম্বরে আরও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেতের পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সম্ভাব্য আঘাতের স্থল নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা।
এদিকে রোববার প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নভেম্বরে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমলেও সামগ্রিকভাবে তা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
মাসের মাঝামাঝি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। নদী অববাহিকা ও বিভিন্ন এলাকায় ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। তবে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই তিন মাসে দেশে আট থেকে ১০টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।
এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে দুটি থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে পাঁচটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ অথবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে।




