…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
রাজনীতি

পদ্মা ব্যারাজে বছরে ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার সুবিধার হিসাব পাউবোর, ফেব্রুয়ারিতে দৃশ্যমান কাজ উদ্বোধনের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকারের মাস্টার প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিতভাবে পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংস্থাটির হিসাবে, ব্যারাজটি চালু হলে বছরে মাছের উৎপাদন প্রায় আড়াই লাখ টন বাড়াসহ সব মিলিয়ে বছরে ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বাসসকে বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে কাজ অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে এবং পানি ভবনে এ প্রকল্পের জন্য আলাদা একটি অফিস দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর তাঁরা রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুরে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং গত ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত ব্যারাজ এলাকা ঘুরে দেখেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যারাজের কাজের অগ্রগতি আরও গতিশীল হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমিটির সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার এবং পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। তবে দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় আরও বাড়বে। ব্যারাজের কাজ চলতি বছরের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহের জন্যই মূলত ব্যারাজটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষা পায় এবং শুষ্ক মৌসুমের পানিসংকট দূর হয়।

প্রকল্পের মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। এর আওতায় নির্মাণ করা হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা ব্যারাজ, ৭৮টি পানিনিষ্কাশন কপাট (স্পিলওয়ে), ১৮টি তলদেশ নির্গমন পথ (আন্ডারস্লুইস), দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ। ব্যারাজটিতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দেশের চার বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন এবং কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে বলেও প্রকল্পের বিবরণে বলা হয়েছে।

প্রকল্পটি প্রথম ধাপে খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় বাস্তবায়িত হবে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ প্রধান নদীগুলোর প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো প্রকল্পের মূল লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে।

এই প্রকল্পের পেছনের সংকটের কথা বলতে গিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী এখন মৃতপ্রায়, নদীগুলোতে পলি জমে লবণাক্ততা বেড়েছে এবং বর্ষাকালে পানি ধারণের অবস্থা না থাকায় বন্যার কবলে পড়ে এসব অঞ্চলের জনপদ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ায় শুষ্ক মৌসুমে উপকূলের মানুষ খাওয়ার পানি পর্যন্ত পায় না। সেচের পানি না পেয়ে কৃষকেরা মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলছেন, এতে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে ও আর্সনিক বাড়ছে। মৃতপ্রায় নদীতে মাছের উৎপাদন কমায় অনেক জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যেই ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। গত দুই দশকে নদীভাঙনে পদ্মা বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি বিলীন হয়েছে এবং তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার সরাসরি নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে।

বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বাসসকে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেশি লবণাক্ততার কারণে খাওয়ার পানির সংকট রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সুন্দরবনসহ ওই অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে। এ জন্য ওই অঞ্চলগুলোতে মিঠাপানির সর্বোচ্চ সরবরাহ ও প্রবাহ প্রয়োজন হবে এবং পদ্মা ব্যারাজ এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্মাণের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন, উজানে নদী ক্ষয় ও পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বাসসকে বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের এক তৃতীয়াংশ ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নৌ-চলাচল, সুপেয় পানি ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ প্রথমে নেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের দিকে পুনরায় উদ্যোগ নেন, কিন্তু তখন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের ভাষায়, ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ স্বর্ণযুগে প্রবেশ করবে এবং কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

পোশাক খাতে অস্থিরতার পেছনে কিছু মালিকও জড়িত, কঠোর দমনের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
রাজনীতি

পোশাক খাতে অস্থিরতার পেছনে কিছু মালিকও জড়িত, কঠোর দমনের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টির পেছনে কিছু শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, …

রাকসু নির্বাচন না হলে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও সিট বাণিজ্য ফিরে আসবে, সাবেক জিএস আম্মারের হুঁশিয়ারি
রাজনীতি

রাকসু নির্বাচন না হলে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও সিট বাণিজ্য ফিরে আসবে, সাবেক জিএস আম্মারের হুঁশিয়ারি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলে ক্যাম্পাসগুলোত…

পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ জামায়াত আমিরের, প্রায় ৬০০ কারখানা বন্ধের কথা জানিয়ে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান
রাজনীতি

পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ জামায়াত আমিরের, প্রায় ৬০০ কারখানা বন্ধের কথা জানিয়ে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান

দেশের পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও …

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: আন্দোলনের আড়ালে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে কঠোর হাতে দমন
রাজনীতি

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: আন্দোলনের আড়ালে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে কঠোর হাতে দমন

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপতৎপরতা সরকার অত্যন্ত কঠোর হাতে প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দ…