শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রথমবার নিরাপত্তা অডিট করছে আইকাও, চলবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করতে প্রথমবারের মতো অডিট করছে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)।
আইকাওর চার সদস্যের প্রতিনিধিদল গত ১ নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৬১৫ ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে তাদের অডিট কার্যক্রম। আইকাওর ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচের (ইউএসএপি-সিএমএ) আওতায় এই অডিট পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও পরিদর্শন করেছে প্রতিনিধিদলটি।
অডিট চলাকালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সেবা, যন্ত্রপাতির সক্ষমতা, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নের বিষয়গুলো খুঁটিয়ে দেখবে আইকাওর প্রতিনিধিদল।
দেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম এই বিমানবন্দর ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রী পরিবহন ও ফ্লাইট পরিচালনা করলেও এবারই প্রথম বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরাসরি পর্যালোচনা করছে আইকাও। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে বছরে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন।
আইকাওর অডিটের আগেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্ত হয়েছে নয়টি নতুন স্ক্যানার, ছয়টি বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র (ইটিডিএস) ও ৮১টি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা।
এছাড়া যাত্রীদের চেক-ইন করা লাগেজের একটি নির্দিষ্ট অংশ দৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করার সক্ষমতাও অর্জন করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী অন্তত পাঁচ শতাংশ লাগেজ দৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতে হয়। পাশাপাশি যানবাহনের নিচের অংশ পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নুর হোসেন বলেন, “আইকাওর নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন সময় যেকোনো দেশে এ ধরনের অডিট পরিচালনা করা হয়। আমাদের অডিটও নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।” তিনি আরো বলেন, “আমাদের অন্তত পাঁচ শতাংশ লাগেজ দৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতে হয়, যাতে কোনো বিস্ফোরক আছে কি না, তা শনাক্ত করা যায়। আমরা সেই সক্ষমতাও অর্জন করেছি। যানবাহনের নিচের অংশ পরীক্ষার ব্যবস্থাও করেছি। এসব ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর হলে আগের তুলনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে।”
যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইনসও। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ; বিশেষ করে কার্গো ফ্লাইট পুনরায় চালু করা ও নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী তারা।
গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নুর হোসেন বলেন, “ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরো জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হলে হয়তো এখান থেকে পুনরায় কার্গো ফ্লাইট চালু হবে। পাশাপাশি আরো কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। এসব কার্যক্রমকে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত আছি।”
বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই অডিটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই মূল্যায়ন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও কার্গো কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।


