গাজীপুরে নাওজোর ফ্লাইওভারে পুলিশের গাড়িতে আগুন, বিজিবি সদস্য আহত; ছুটির কারখানা বেড়ে ২৫০

গাজীপুর মহানগরের নাওজোর এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ পোশাকশ্রমিকেরা। এছাড়া শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে নাওজোর ফ্লাইওভারের ওপর পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হিরন মিয়া জানান, নাওজোর এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শ্রমিকদের বাধার মুখে যেতে পারেননি।
এদিকে আন্দোলনের মুখে সোমবার নতুন করে আরও ১৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়। এর আগে রবিবার (১ নভেম্বর) ১০০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৫০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলো। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে কোনাবাড়ী, মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, ভোগড়া, নাওজোর ও সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুপুরে নাওজোর ফ্লাইওভারের ওপর পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও আন্দোলন থামেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা-পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে বিজিবির এক সদস্য আহত হন। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ ও বিজিবি। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গাজীপুরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিজিবি সদস্যরা জেলার শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করবেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। ভোগড়া এলাকা থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য এলাকাগুলোতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও বিজিবি কাজ করছে।
তিনি বলেন, পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে থাকলে শ্রমিকেরা সরে যান। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখান থেকে চলে গেলে আবারও তাঁরা আন্দোলন শুরু করেন।




