শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড্ডয়ন এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে তেলাওয়াত ও পাঠের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে আলোচনা সভা ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর সভাপতি ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সিকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. মো. কামরুজ্জামান কায়সার, সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, সিকৃবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী এবং ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, কৃষি মানে কৃষক, আর কৃষিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনীতির ওপর বাংলাদেশ এখনো অনেকটা নির্ভরশীল। তিনি বলেন, কৃষি অপার সম্ভাবনার একটি খাত; সামনের দিনে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বড় বড় কৃষিবিজ্ঞানী বের হবেন, দেশে উন্নত মানের হিমাগার ও কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, জমি কমে গেলেও অল্প জমিতে বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদন করা যাবে, একটি বড় কৃষি বিপণন ব্যবস্থা গড়ে পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা যাবে এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের ওপর ভর করে দেশকে তুলে ধরা যাবে।
প্রধান বক্তা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষির আধুনিকায়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন; এ্যাব সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই সংখ্যা থেকে ৫ লাখ গাছ তারাই লাগাবে এবং ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ লাগানোর প্রস্তাব তারা নিজেরাই দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন।




