সুদানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ধারাবাহিকতা, এক সপ্তাহে ১৮টি হামলা
সুদানের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে সোমবার তিনটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে দেশটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
এই হামলার মধ্য দিয়ে গত এক সপ্তাহে সুদানের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে চালানো হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টিতে। ধারাবাহিক এই হামলাগুলোকে বিদ্যুৎব্যবস্থা ধ্বংসের একটি ঘনীভূত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে পূর্বাঞ্চলীয় কাসালা রাজ্যের নিউ হালফা ও অ্যারোমার স্থাপনায় হামলা হয়। একই দিনে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যের আল-গাজালি উপকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই স্থাপনাগুলোতে আগুন জ্বলতে এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব ফুটেজ ও খবর তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সুদানের সামরিক সরকারের দাবি, আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) এসব হামলা চালাতে সহায়তা করছে ইথিওপিয়া। সুদানি সেনাবাহিনী ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।
রোববার সুদান সরকার জানায়, বেসামরিক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে চলমান হামলার অভিযানে ইথিওপিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ দায়ের করেছে।
এদিকে সুদানের সেনাবাহিনী সোমবার জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ব্লু নাইল রাজ্যের রাজধানী দামাজিনে আরএসএফের একদল সদস্য আত্মসমর্পণ করে সেনাবাহিনীর পক্ষে যোগ দিয়েছে।
এর আগে আরএসএফের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার সিদ্দিক আন্দের এক ভিডিও বার্তায় নিজের দলত্যাগের ঘোষণা দেন। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্লু নাইল রাজ্যে আরএসএফ থেকে দলত্যাগের ঘটনা বাড়ছে, দামাজিনের ঘটনাটি তারই সর্বশেষ উদাহরণ।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, দলত্যাগকারী ওই কমান্ডার দামাজিনে সামরিক অভিযান পরিচালনা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে আরএসএফের প্রতি ইথিওপিয়ার সমর্থনের বিষয়টিও রয়েছে।




