১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার এখন ২ হাজার ৬০ টাকা, দুই মাসে বাড়ল ৪৭৫ টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এত দিন এর দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম একই দিন রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা; সে হিসাবে গত দুই মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। অক্টোবরে ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
গত মার্চ মাসে একই ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। ছয় মাসে দাম বেড়েছে ৭১৯ টাকা। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অন্যান্য আকারের সিলিন্ডারের দামও নির্ধারণ করা হয়েছে—সাড়ে ৫ কেজি ৯৪৪ টাকা, সাড়ে ১২ কেজি ২ হাজার ১৪৬ টাকা, ১৫ কেজি ২ হাজার ৫৭৫ টাকা, ১৬ কেজি ২ হাজার ৭৪৭ টাকা, ১৮ কেজি ৩ হাজার ৯০ টাকা, ২০ কেজি ৩ হাজার ৪৩৪ টাকা, ২২ কেজি ৩ হাজার ৭৭৭ টাকা, ২৫ কেজি ৪ হাজার ২৯২ টাকা, ৩০ কেজি ৫ হাজার ১৫০ টাকা, ৩৩ কেজি ৫ হাজার ৬৬৫ টাকা, ৩৫ কেজি ৬ হাজার ৯ টাকা এবং ৪৫ কেজি ৭ হাজার ৭২৬ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এলপিজির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের এলপিজির বেশিরভাগ আগে আনা হতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে; এখন ৮৫ ভাগ এলপিজি আনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দামের সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি জাহাজ ভাড়া।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পরিবহন ব্যয়, বিশেষ করে এলপিজি ক্যারিয়ার বা জাহাজ ভাড়া, অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তখন প্রতি টন এলপিজির পরিবহন ব্যয় ১২০ ডলার থেকে বেড়ে ২৫০ ডলারে দাঁড়ায়। এ জন্য অপারেটররা এলপিজি আমদানি কমিয়ে দেন; একই সঙ্গে জাহাজ ভাড়ার কারণে দাম বাড়বে আগেভাগে বুঝতে পেরে কোম্পানিগুলো এলপিজি সরবরাহ সীমিত করে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দফায় দফায় বৈঠক করেও বিষয়টি স্বাভাবিক করতে পারেননি। মালিকদের অসহযোগিতার সঙ্গে যোগ হয় ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা ব্যবসায়ীদের আন্দোলন; তাঁরাও মুনাফা বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে যোগ হয় বাড়তি মুনাফা।
আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের নভেম্বরে সৌদি আরামকোর এলপিজির চুক্তিমূল্য (সিপি) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রতি টন প্রপেনের দাম ছিল ৪৭৫ ডলার, যা চলতি বছরের নভেম্বরে বেড়ে ৭২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে—বেড়েছে ২৪৫ ডলার বা ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে বিউটেনের দাম প্রতি টন ৪৬০ ডলার থেকে বেড়ে ৭৮০ ডলার হয়েছে—বেড়েছে ৩২০ ডলার বা ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
বছরজুড়ে দামের ওঠানামাও ছিল বড়। জানুয়ারিতে ১২ কেজির সিলিন্ডার ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা (বিইআরসির অন্য হিসাবে ১ হাজার ৩০৬ টাকা), ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা; পরে ভ্যাট কমায় ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা এবং মার্চে তা অপরিবর্তিত থাকে। এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়—প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা ও দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা—এবং দাম পৌঁছায় ১ হাজার ৯৪০ টাকায়।
এরপর জুনে ৫৫ টাকা ও জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমে দাম নামে ১ হাজার ৫২৮ টাকায়। আগস্টে ৭০ টাকা বেড়ে হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমে হয় ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তার পরই অক্টোবর ও নভেম্বরের দুই দফা বৃদ্ধিতে দাম ২ হাজার ৬০ টাকায় পৌঁছেছে।
তুলনায়, ২০২১ সালের এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ৯৭৫ টাকা, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা—পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা, প্রায় ৯৯ শতাংশ।



