ক্যানসারের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ কোষকে দীর্ঘক্ষণ সক্রিয় রাখার নতুন কৌশল পেলেন গবেষকেরা

ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষভাবে প্রস্তুত রোগপ্রতিরোধ কোষকে (টি-সেল) দীর্ঘ সময় শক্তিশালী রাখার একটি নতুন কৌশলের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। ইউসিএলএ হেলথ জনসন কম্প্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের গবেষণায় দেখা গেছে, পি৫৩ নামের একটি প্রোটিনের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে বাড়ালে টি-সেলগুলো পরীক্ষাগারে মেলানোমা কোষ ধ্বংসে আগের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়।
কিছু ক্যানসার চিকিৎসায় রোগীর নিজের টি-সেল সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে সেগুলো ক্যানসার কোষ চিনতে পারে। এরপর সেই কোষ রোগীর শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয় টিউমার আক্রমণ করার জন্য।
গবেষকদের ভাষ্যে, এই পদ্ধতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো টি-সেলের ‘ক্লান্ত’ হয়ে পড়া। বারবার ক্যানসার কোষের মুখোমুখি হতে হতে কোষগুলো একপর্যায়ে দুর্বল হয়ে পড়ে; তখন তাদের সংখ্যা বাড়ানো ও আক্রমণের ক্ষমতা কমে যায়।
এই সমস্যা কাটাতে গবেষকেরা মানব টি-সেলের ওপর নাভটেমাডলিন নামের একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ প্রয়োগ করেন। এই ওষুধ সাময়িকভাবে পি৫৩ প্রোটিনের কার্যকারিতা বাড়ায়। পি৫৩ ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার জন্য পরিচিত একটি প্রোটিন।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধ প্রয়োগ করা টি-সেলগুলোতে ক্লান্তির লক্ষণ কম ছিল, সেগুলোর শক্তি বেশি ছিল এবং দীর্ঘদিন টিকে থাকতে সহায়ক বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছিল। পরীক্ষাগারে মেলানোমা কোষের বিরুদ্ধে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, ওষুধ না দেওয়া টি-সেলের তুলনায় এগুলো ক্যানসার কোষ ধ্বংসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি কার্যকর। গবেষণাটি ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন ইমিউনোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের চিকিৎসক কিয়েন ভু, যিনি এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না, বলেন টি-সেলের ক্লান্ত হয়ে পড়া এই ধরনের চিকিৎসার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। তার ভাষ্যে, বারবার ক্যানসারের মুখোমুখি হয়ে কোষগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সংখ্যা বাড়ানো ও আক্রমণের সক্ষমতা হারায়।
ভুর মতে, এই কৌশলের ব্যবহারিক সুবিধা এর সরলতায়। নতুন করে আরেকটি জিনগত পরিবর্তন যোগ না করে রোগীর টি-সেল পরীক্ষাগারে প্রস্তুত করার ধাপেই ওষুধটি যোগ করা যায়। পদ্ধতিটি পরবর্তী গবেষণায় সফল হলে, বিশেষ করে কঠিন টিউমারের চিকিৎসায় টি-সেলকে দীর্ঘক্ষণ কার্যকর রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে।
তবে গবেষকেরা ও ভু দুজনেই সতর্ক করে বলেছেন, এটি একেবারে প্রাথমিক, পরীক্ষাগার পর্যায়ের গবেষণা। পরীক্ষাগুলো করা হয়েছে থালায় রাখা মানব কোষে মেলানোমা কোষের বিরুদ্ধে — কোনো প্রাণী বা মানুষের ওপর নয়। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় যাওয়ার আগে পদ্ধতিটি প্রাণীর ওপর এবং অন্য ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ওষুধের মাত্রা নিয়েও সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। ইউসিএলএর গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি মাত্রায় পি৫৩ সক্রিয় করলে উল্টো বেশি টি-সেল মারা যায়, আর কম মাত্রায় সুস্থ কোষের সংখ্যা বড়ভাবে না কমিয়েই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া গেছে। ভুর ভাষ্যে, সঠিক ভারসাম্য পাওয়া তাই অত্যন্ত জরুরি হবে।
ভু বলেন, রোগীদের এখনই ক্লিনিকে এই চিকিৎসা আশা করা উচিত নয়; তবে এটি অনুসরণ করার মতো একটি প্রতিশ্রুতিশীল নতুন দিক।




