সেন্টমার্টিনে মৌসুম শুরু হলেও জাহাজের অনুমতি মেলেনি, পর্যটক পরিবহন অনিশ্চিত
সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে এখনো কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পায়নি। রুট পারমিটের জন্য সাতটি জাহাজ আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কোনো জাহাজকে অনুমোদন দেয়নি।
ফলে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ চালু হলেও এখনো পর্যটক পরিবহন শুরু হয়নি।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য সাতটি পর্যটকবাহী জাহাজ রুট পারমিটের আবেদন করেছে। তবে আবেদনগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট ও নথিপত্র না থাকায় অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
আবেদন করা জাহাজগুলো হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, এমভি টেকনাফ, এমভি কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, এমভি কেয়ারি সিন্দাবাদ, এলসিটি কাজল ও এমভি বে-কুইজার-১।
বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজগুলোর হালনাগাদ সার্ভে সার্টিফিকেট, রুট পারমিট ফি জমার প্রমাণ, কনজারভেন্সি ছাড়পত্র ও ভয়েজ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। এসব কাগজপত্র যাচাইয়ের পরই রুট পারমিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে।
বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম বিভাগ ও কক্সবাজার নদীবন্দরের উপপরিচালক নয়ন শীল বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাহাজের ফিটনেসসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু যাচাই করেই অনুমতি দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নুনিয়ারছড়া থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন সমুদ্রে চলাচল না করা জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সনদ ও ফিটনেস যাচাইকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন।
তবে ভ্রমণের সুযোগ চালু হলেও জাহাজের রুট পারমিট না থাকায় পর্যটক পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত জমা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


