ফ্লোরিডায় ডেঙ্গুর প্রকোপ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত ৪৮৫ জন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, এ বছর স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮৫ জন।
ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নজরদারিতে ৬০টি নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে। রাজ্যজুড়ে স্থানীয়ভাবে আক্রান্তদের প্রায় ৯৫ শতাংশই টাম্পা বে এলাকার।
সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে হিলসবরো, পাসকো ও পিনেলাস কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এতে দ্রুত কেনাকাটা ও স্প্রে করার সুযোগ তৈরি হয় এবং রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে ব্যয় ফেরতের আবেদন করা যায়। সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় হিলসবরো কাউন্টি পরে স্থানীয় জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছে।
স্থানীয়ভাবে আক্রান্তদের এই সংখ্যা এ বছর ফ্লোরিডায় নথিভুক্ত ৩০০-র বেশি ভ্রমণ-সংশ্লিষ্ট ডেঙ্গু আক্রান্তের থেকে আলাদা। ভ্রমণ-সংশ্লিষ্ট সংক্রমণগুলো দেশীয় মশার মধ্যে ভাইরাস প্রবেশ করাতে থাকে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লোরিডা মস্কিটো কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, মশা নিধন দলগুলো লক্ষ্যভিত্তিক মাটিতে স্প্রে, আকাশ থেকে স্প্রে এবং স্থানীয়ভাবে বাড়িঘর পরিদর্শন বাড়িয়ে দিয়েছে। টাম্পা বে এলাকাজুড়ে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা নজরদারি ও ব্যবস্থা জোরদার করেছেন।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত সংক্রমিত এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশার কামড়ে ছড়ায়। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, এই ভাইরাসে জ্বর, তীব্র পেশি ও গাঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ফুসকুড়ি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে বিপজ্জনক জটিলতা বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
অনেক মশা প্রজাতি মূলত ভোর ও সন্ধ্যায় কামড়ালেও ডেঙ্গুবাহী মশা দিনের বেলায় আক্রমণাত্মকভাবে কামড়ায় এবং আর্দ্র আবাসিক পরিবেশে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
এসসি জনসন সেন্টার ফর ইনসেক্ট সায়েন্স অ্যান্ড ফ্যামিলি হেলথের একজন কীটতত্ত্ববিদ মুখপাত্র এর আগে বলেছিলেন, ‘ডেঙ্গু ছড়াতে পারে এমন এডিস মশা দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে এবং ফ্লোরিডার মতো উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। স্থানীয় মশার কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ধারাবাহিকভাবে কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া ঝুঁকি কমাতে মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এডিস মশা ‘কনটেইনার ব্রিডার’ — ডিম পাড়ার জন্য এক টেবিলচামচ পরিমাণ জমে থাকা পানিই তাদের জন্য যথেষ্ট। কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের প্রতি সপ্তাহে উঠান পরীক্ষা করে পাখির পানির পাত্র, নালা, ফুলের টব, ফেলে দেওয়া টায়ার ও বাইরের পাত্রের পানি ফেলে দিতে বা ঢেকে রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ডিইইটি, পিকারিডিন বা লেবু-ইউক্যালিপটাসের তেলযুক্ত পোকামাকড় তাড়ানোর ওষুধ লেবেলের নির্দেশনা মেনে ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়েছে।
মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের লক্ষণ হালকা থাকে বা কোনো লক্ষণই থাকে না এবং সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা সেরে ওঠেন। লক্ষণ দেখা দিলে তা সাধারণত সংক্রমিত কামড়ের চার থেকে ১০ দিন পর প্রকাশ পায়।
গুরুতর ডেঙ্গু প্রাথমিক জ্বর কমে যাওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত অগ্রসর হতে পারে। সতর্কসংকেতের মধ্যে রয়েছে বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি থেকে রক্তপাত এবং চরম অবসাদ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।




