ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভোটের পথে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, খরচ পৌঁছাতে পারে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণা ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে — মোট খরচ পৌঁছাতে পারে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে (১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারের পূর্বাভাস)। প্রচারণা অর্থায়ন পর্যবেক্ষক স্বাধীন সংস্থা ওপেন সিক্রেটস এই পূর্বাভাস দিয়েছে।
৩ নভেম্বরের ভোটের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিপুল অর্থ ঢালছে বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো, যাদের বলা হয় সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা সুপার প্যাক। এই খরচের বড় অংশই আসছে তাদের কাছ থেকে।
ব্যক্তিগত দাতাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন ধনকুবের ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক; তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের পেছনে প্রায় ৫০ কোটি ডলার খরচ করেছেন, বিশেষ করে টেক্সাসে, যেখানে তাঁর অনেক প্রতিষ্ঠান অবস্থিত।
দাতারা সরাসরি প্রার্থীদের কত দিতে পারবেন, সে বিষয়ে নিয়ম থাকলেও সুপার প্যাকগুলো ব্যক্তি, করপোরেশন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও অন্যান্য রাজনৈতিক কমিটি থেকে সীমাহীন অনুদান নিতে পারে। তারা সরাসরি প্রার্থীকে অর্থ দিতে পারে না, তবে পরোক্ষভাবে সমর্থনে খরচ করতে পারে।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্তের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই মধ্যবর্তী চক্রে ইতিমধ্যে ৯৫০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়ে গেছে। এর অর্ধেকের বেশি — প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার — এসেছে প্যাক ও সুপার প্যাকগুলোর কাছ থেকে, এবং গত দুই মাসে তাদের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
ওপেন সিক্রেটস আগের চক্রগুলোর ধারা অনুযায়ী মোট খরচ ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলার হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তা ২০২২ সালের সর্বশেষ মধ্যবর্তী নির্বাচনের খরচের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
উদারপন্থী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস জানিয়েছে, শীর্ষ ৪০ দাতা ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দিয়েছেন ২৪০ কোটি ডলার, যা মধ্যবর্তী চক্রের এই পর্যায়ে রেকর্ড। মার্কিন প্রচারণা অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ মাইকেল বেকেল বলেন, '২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে খরচ সব রেকর্ড ভাঙছে; এই নির্বাচনে অর্থের বড় অংশ আসছে সবচেয়ে ধনী দাতা ও গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে।'
ধনকুবের অর্থদাতা জর্জ সোরোসের প্রতিষ্ঠিত জিওসর করপ ও ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম মিলে উদার গোষ্ঠীগুলোকে দিয়েছে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় দাতা হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী মাইকেল ব্লুমবার্গ, তাঁর অনুদান ৬ কোটি ডলারের বেশি। জেফ ইয়াস এবং রিচার্ড ও এলিজাবেথ উইলেইন দম্পতির মতো ধনকুবেররা রিপাবলিকানদের পেছনে দিয়েছেন ১০ কোটি ডলারের বেশি করে।
মাস্কের অর্থের বেশির ভাগ গেছে ২০২৪ সালে তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠা করা সুপার প্যাক 'আমেরিকা প্যাক' এবং রিপাবলিকান-ঘনিষ্ঠ সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে। টেক্সাসের সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্যালারিকোর বিরুদ্ধে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনে আমেরিকা প্যাক বিনিয়োগ করেছে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি; মিশিগান ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনেও প্রায় ১ কোটি ডলার করে বিনিয়োগ করেছে সংস্থাটি।
ওপেন সিক্রেটসের ব্রেন্ডান জে গ্ল্যাভিন বলেন, ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলোও এই চক্রে খুব সক্রিয় — রিপল ও কয়েনবেস মিলে ক্রিপ্টো শিল্পের স্বার্থ প্রচারকারী সুপার প্যাকগুলোতে দিয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
প্রচারণার অর্থ খরচ হয় মাঠপর্যায়ের ভোটার যোগাযোগ, সমাবেশ ও অভ্যন্তরীণ জরিপে, তবে সবচেয়ে বড় অংশ যায় বিজ্ঞাপনে — বিশেষ করে টেলিভিশনে। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনেই খরচ হয়েছে ১ হাজার ১১৫ কোটি ডলার; প্রচলিত সম্প্রচার টেলিভিশনই সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী, যদিও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে খরচ বাড়ছে। বিজ্ঞাপনের অর্থের বড় অংশ গেছে মিশিগান, টেক্সাস ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনে, এরপর আইওয়া ও মেইনে।




