…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
আমেরিকা

আফগানদের গণবহিষ্কার থামাতে ট্রাম্প প্রশাসনকে ৬৬ মার্কিন আইনপ্রণেতার চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আফগানদের পরিকল্পিত গণবহিষ্কার বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ জন আইনপ্রণেতা। বহিষ্কারের মুখে থাকা আফগানদের মধ্যে কেউ কেউ ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগে আফগানিস্তানে জোট বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন।

সোমবারের ওই চিঠিতে আইনপ্রণেতারা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, কমপক্ষে ১৫০ জন আফগানকে মঙ্গলবার থেকে বহিষ্কারের সূচি করা হয়েছে—লুইজিয়ানার আটককেন্দ্রগুলো থেকে তাঁদের বিমানে করে পাকিস্তানে পাঠানো হবে।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) কর্মকর্তারা আদালতে দাখিল করা নথিতে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত এসব আফগানের কয়েকজনকে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিনকে উদ্দেশ করে লেখা চিঠিতে আইনপ্রণেতারা বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলোর একটিতে কয়েক ডজন মানুষকে ফেরত পাঠানো—যেখানে মার্কিন সরকারের প্রতি তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের সন্দেহভাজন সমর্থন কিংবা তালেবানের সমালোচনার কারণে তাঁরা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন—তা মৃত্যুদণ্ডের শামিল।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মার্কিন সেনাদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা আফগানদের কখনো পরিত্যাগ করা হবে না।’

অভিবাসন কঠোর করার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় দেশের নাগরিকদের গ্রহণে কমপক্ষে ৩৫টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে; অনেক ক্ষেত্রেই নিজ দেশে ফেরত পাঠালে নির্যাতন, হত্যা বা নিপীড়নের আশঙ্কা থাকায় এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই প্রথার সমালোচকদের মতে, এটি আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থী সুরক্ষা ঘিরে কয়েক দশকের বৈশ্বিক মানবিক রীতিকে দুর্বল করে। তাঁদের ভাষ্যে, বহিষ্কৃতরা প্রায়ই এমন দেশে গিয়ে পড়েন যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড আছে, কিংবা যেসব জায়গা এতই বিপজ্জনক যে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সেখানে নিজ নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্ক করে।

অলাভজনক সংগঠন রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫ হাজার মানুষকে জোর করে তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট নিশ্চিত করেছে, লুইজিয়ানার আলেক্সান্দ্রিয়া থেকে আফগানদের একটি অংশকে নিয়ে পাকিস্তানগামী একটি ফ্লাইট মঙ্গলবারের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

অধিকারকর্মীদের ভাষ্যে, পাকিস্তানগামী এই বহিষ্কারের দলে ইরানিরাও থাকতে পারেন; ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও অল্পসংখ্যক ইরানিকে তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে, যাতে শেষ পর্যন্ত তাঁদের ইরানে ফেরত পাঠানো যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান লাখ লাখ আফগানকে আফগানিস্তানে বহিষ্কার করেছে, তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির মধ্যে।

আফগানইভ্যাক নামের অধিকার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শন ভ্যানডাইভার বলেন, বহিষ্কারের সূচিতে থাকা অধিকাংশ আফগানই আদালতে নিজেদের অপসারণের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে লড়ার সুযোগ পাননি। তাঁর ভাষ্যে, ‘আইনজীবী দিয়ে লড়ার সামর্থ্য না থাকায় তাঁদের অপসারণ প্রক্রিয়ায় ফেলা হয়েছে।’

ভ্যানডাইভার জানান, সোমবার তিনি তালেবান কর্তৃক উৎখাত হওয়া আফগান সরকারের একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন; ওই ব্যক্তি বহিষ্কারের অপেক্ষায় আছেন এবং আফগানিস্তানে ফিরলে জীবন নিয়ে শঙ্কিত। ভ্যানডাইভারের ভাষ্যে, অন্যদের অনেকে আফগান সরকারে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করেছেন, কিংবা তাঁদের পরিবারের কেউ করেছেন—ফিরলে তাঁরাও বিপদে পড়বেন।

২০২১ সালে মার্কিন বাহিনীর বিশৃঙ্খল প্রত্যাহারের পর এক লাখ ২০ হাজারের বেশি আফগানকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কেউ কেউ বিদেশে স্থাপনায় আশ্রয় পান, যেমন কাতারে; গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র কাতারের ক্যাম্প আস সায়লিয়াহর জন্য নয় মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি অনুমোদন করে, যেখানে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা এক হাজারের বেশি আফগান রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনা আফগানদের প্রথমে মানবিক প্যারোল দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন তাঁদের ১৮ মাসের অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা (টিপিএস) দেয়, যাতে প্যারোলের মেয়াদ শেষের পরও অভিবাসন অবস্থান নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বৈধভাবে থাকতে ও কাজ করতে পারেন। কিন্তু মারাত্মক ব্যাকলগে আটকে থাকা অভিবাসন ব্যবস্থায় এরপর খুব কম আফগানই আশ্রয় বা বিশেষ সুরক্ষার আবেদন এগিয়ে নিতে পেরেছেন।

ভ্যানডাইভার বলেন, ‘এই মানুষগুলো চরম দুর্দশায় আছেন; পাঁচ বছর ধরে তাঁরা অনিশ্চয়তায় আটকে আছেন—স্থায়ী মর্যাদা, গ্রিন কার্ড, নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।’

২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে একজন আফগান ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার অভিযোগ ওঠার পর ট্রাম্প আফগানদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ বন্ধের নির্দেশ দেন। এ বছরের শুরুর দিকে প্রশাসন আফগান নাগরিকদের একটি সামগ্রিক ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায়ও আনে; দুটি সিদ্ধান্তই আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। অধিকারকর্মীরা আফগানদের সুরক্ষায় নতুন আইনের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন, যার মধ্যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় একটি বিলও রয়েছে—যা ট্রাম্প প্রশাসন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর অনেককে টিপিএস দেবে।

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেটের কড়া লড়াই আর ৩৯ গভর্নর পদে ভোট
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেটের কড়া লড়াই আর ৩৯ গভর্নর পদে ভোট

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নির্বাচনকে ‘আমাদের জীবদ্দশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বলেছেন, সিনেটর বার্নি স…

মিশিগানে শেষ মুহূর্তে সতীর্থকে সমর্থন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যের, প্রতিদ্বন্দ্বীর তহবিলে রেকর্ড ঢল
আমেরিকা

মিশিগানে শেষ মুহূর্তে সতীর্থকে সমর্থন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যের, প্রতিদ্বন্দ্বীর তহবিলে রেকর্ড ঢল

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে নিজ দলের প্রার্থীকে ছেড়ে রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ…

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট আজ, জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট আজ, জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্…

বাইন্যান্সে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার
আমেরিকা

বাইন্যান্সে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার

ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের (৪৭০ কোটি পাউন্ড) হ্যাকিংয়ের পেছনে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। অভিযোগটিক…