এনসিপির ক্রীড়া উইংয়ের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আসিফ আকবর: ‘আমি নাহিদ ইসলামের ভক্ত’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ক্রীড়া উইং ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর জানিয়েছেন, তিনি সংসদ সদস্য ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ভক্ত। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
এদিন নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে আহ্বায়ক এবং এম নাজমুল ইসলামকে সদস্যসচিব করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
আসিফ আকবর বলেন, ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ নিয়ে সংসদে কথা বলায় হাসনাত আব্দুল্লাহ ১০০ বছর দোয়া পাবেন।
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে রাজনৈতিক দলই খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করুক, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে তাদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত। ক্রীড়াঙ্গনে দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আসিফ আকবর দাবি করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। তিনি বলেন, তৎকালীন বিসিবি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে বিষয়টি সালিশি প্রক্রিয়ায় (আরবিট্রেশন) গড়ায়; তখন আইসিসির এক প্রতিনিধি বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে দেশের ক্রিকেট ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় তারা আর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
বর্তমান বিসিবির কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসিফ বলেন, তারা দেড় মাস দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করেছিলেন; অথচ এখন নতুন করে বিপিএল আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান বোর্ডের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে, আর বিসিবিকে খেলাধুলার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বদলে আড্ডার জায়গায় পরিণত করা হয়েছে।
বিসিবির তৎকালীন বোর্ড গঠন নিয়েও অভিযোগ তোলেন এই সংগীতশিল্পী। তাঁর দাবি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং তৎকালীন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সহযোগিতায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছিল; এ ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আঞ্চলিক প্রভাব কাজে লাগানো হয়। ‘বিএনপির কিছু ভেড়া-ছাগল’ তাদের সঙ্গে ছিল বলেও অভিযোগ করেন আসিফ।
দেশে কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংগীতশিল্পী। তিনি বলেন, খেলার মাঠের সংকট, ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রশাসনে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে অনেক তরুণ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির বিরোধিতা করেন আসিফ আকবর। ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সকে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ না করে স্বাধীনভাবে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে প্রথম টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেন আসিফ। তাঁর ভাষ্যে, তাদের মধ্যেও ভালো খেলোয়াড় থাকতে পারে। একইভাবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরা তরুণদের নিয়েও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যেতে পারে; এতে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
আসিফের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নানা দিক থেকে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার অন্যতম উপায় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।



