সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে ঝোপঝাড়ের আড়ালে কুমারীকুণ্ড: নীল জলে তলদেশ থেকে ওঠে গ্যাসের বুদবুদ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে ঝরনা, ছড়া আর সবুজে ঘেরা দুর্গম পথের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কুমারীকুণ্ড। ঘন ঝোপঝাড় আর পাথুরে ছড়ার আড়ালে থাকা এই প্রাচীন কূপের স্বচ্ছ নীল জল, তলদেশ থেকে উঠে আসা গ্যাসের বুদবুদ এবং আশপাশে ছড়িয়ে থাকা পুরনো ইটের কাঠামো ইতিহাস ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে কৌতূহল জাগায়।
সীতাকুণ্ডের পরিচিত তীর্থস্থানগুলোর বাইরে, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত এই স্থানকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নানা কৌতূহল রয়েছে।
ধারণা করা হয়, কুমারীকুণ্ড একসময় কোনো প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা বা তীর্থস্থানের অংশ হয়ে থাকতে পারে। তবে এর সঠিক নির্মাণকাল, প্রতিষ্ঠার ইতিহাস কিংবা ধর্মীয় ব্যবহারের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য সীমিত, ফলে এর ইতিহাসের অনেকটাই এখনো অনুসন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে।
কুমারীকুণ্ডে পৌঁছানোর পথও দুর্গম। ছড়া ধরে পাথুরে পথ দিয়ে এগোতে হয়; কোথাও ঘন গাছপালা, কোথাও ঝোপঝাড়ে ঢাকা সরু পথ। সেই পথ পেরিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ে পুরনো ইটের কাঠামো।
স্থানটির মূল আকর্ষণ পাথর দিয়ে বাঁধানো কূপের মতো জলাধার। আনুমানিক আট থেকে দশ ফুট গভীর এই কুণ্ডের জলে নীলচে আভা দেখা যায়।
পানির তলদেশ থেকে গ্যাসের বুদবুদ উঠে আসার দৃশ্য জায়গাটিকে আরও রহস্যময় করে তোলে। চারপাশের দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে, আর আশপাশে ছড়িয়ে থাকা অদ্ভুত আকৃতির পাথর ও পুরনো ইটের অবশেষ দেখা যায়।
কুমারীকুণ্ডকে ঘিরে একটি ধারণা হলো, প্রাচীনকালে উষ্ণ প্রস্রবণ বা ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গমনের মতো প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত স্থানকে ঘিরে ধর্মীয় বিশ্বাস গড়ে উঠতে পারত। সীতাকুণ্ড অঞ্চলের বিভিন্ন কুণ্ড ও তীর্থস্থানও দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে আসছে।
তবে কুমারীকুণ্ডের ক্ষেত্রে এমন কোনো সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এখানকার পানিতে গ্যাসের বুদবুদ দেখা গেলেও সেটিকে উষ্ণ প্রস্রবণ বলে চিহ্নিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
দুর্গম অবস্থান, ঘন জঙ্গল এবং পরিচিত তীর্থাঞ্চল থেকে দূরত্বের কারণে কুমারীকুণ্ড সাধারণ পর্যটকদের নজরের বাইরে থেকে গেছে, ফলে জায়গাটি এখনো অনেকের কাছে অচেনা।
ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড যেতে সড়কপথে চট্টগ্রামগামী বাসে যাত্রা করা যায়। সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে এস. আলম, সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিকসহ বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করে এবং সবগুলো বাসই সীতাকুণ্ডে থামে।
সীতাকুণ্ড বাজারে পৌঁছে কুমারীকুণ্ডের সঠিক অবস্থান ও যাতায়াতের পথ সম্পর্কে স্থানীয়দের সাহায্য নিতে হবে। দুর্গম ছড়া ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয় বলে আগে থেকে অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইডের ব্যবস্থা করা ভালো।
বর্ষাকালে পাথর পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া, হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়া এবং পথ চিনতে অসুবিধার আশঙ্কা থাকে। তাই আবহাওয়া খারাপ থাকলে এই যাত্রা এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।


