কারওয়ান বাজারে বাটার ছাড়ের শোরুমে বছরে বিক্রি ১ লাখ জোড়া জুতা, বেশির ভাগই ২৫০ থেকে ৬০০ টাকায়

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাটার একটি বিক্রয়কেন্দ্রে সারা বছর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে জুতা বিক্রি হয়, আর সেখান থেকে বছরে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ জোড়া জুতা বিক্রি হয় বলে শোরুমের কর্মীরা জানিয়েছেন।
শোরুমটি কারওয়ান বাজারে বিএসইসি ভবন ও মেট্রোস্টেশনের পাশে অবস্থিত। রাজধানীতে বাটার মূল্যছাড়ের এমন দোকান একটিই; এর বাইরে টঙ্গীতে বাটার কারখানার সামনে এমন আরেকটি শোরুম রয়েছে।
মিরপুর-১৪ এলাকা থেকে গত শনিবার বিকেলে বাসে করে কারওয়ান বাজার আসেন শিহাব উদ্দিন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী টিউশনি করে নিজের খরচ চালান। বন্ধুর কাছে শুনেছিলেন, কারওয়ান বাজারে মেট্রোস্টেশনের পাশে বাটার শোরুমে বিশেষ ছাড়ে সারা বছর জুতা বিক্রি হয়।
শিহাব মাত্র ৬০০ টাকায় এক জোড়া জুতা কিনেছেন। তিনি বলেন, এই জুতা অন্য শোরুম থেকে কিনলে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাগত; তিনি প্রায় ৬০ শতাংশ ছাড়ে কিনতে পেরেছেন এবং এতে তার খুব উপকার হয়েছে।
আরেক ক্রেতা হাফিজুর রহমান একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, থাকেন সাভারে। তিনি বলেন, চাকরির শুরুর দিকে বেতন কম থাকার সময় থেকে তিনি এখানে আসেন। তার ভাষায়, এটি বাটার জুতাই এবং কাজ চলে যায়; বাইরের নন-ব্র্যান্ড জুতার চেয়ে এটি তুলনামূলক ভালো, তবে সব সময় নিজের পায়ের মাপের জুতা পাওয়া যায় না বলে তিনি মাঝেমধ্যেই এখানে আসেন।
হাফিজুর রহমান আরও বলেন, বিশেষ করে যারা নতুন চাকরি শুরু করেছেন, যাদের আয় কম, এবং শিক্ষার্থীদের ফরমাল জুতার প্রয়োজন হয়—তাদের জন্য এটি খুব ভালো একটি জায়গা।
কারওয়ান বাজারে একটি পাঁচতারকা হোটেলে চাকরি করেন জাকির হোসেন। তিনি ৮০০ টাকায় একটি শু কিনেছেন, যার মূল দাম ছিল ১ হাজার ৯৯৯ টাকা। তিনি বলেন, এ নিয়ে চারবার তিনি এই শোরুম থেকে জুতা কিনেছেন; নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও এখান থেকে জুতা কিনেছেন। মান সম্পর্কে তিনি বলেন, একটু উনিশ-বিশ হতে পারে, তবে মান ভালোই এবং এখান থেকে কেনা জুতা তিনি অনেক দিন ধরে ব্যবহার করছেন।
শোরুমে চামড়ার তৈরি শু, জুতা, স্যান্ডেল ও স্পঞ্জ বিক্রি হয়; কৃত্রিম চামড়ার তৈরি কেডস ও জুতাও রয়েছে। চামড়ার জুতা ও শুয়ের দাম ছাড়কৃত মূল্যে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত, তবে বেশির ভাগ জুতা ২৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কেনা যায়। কেডস ও শু বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
শোরুমের একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা জুড়ে রয়েছে ছেলেমেয়েদের স্কুল জুতা, যা ছাড়কৃত মূল্যে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়; এসব জুতার প্রকৃত দাম ৮৯৯ থেকে ৯৯৯ টাকা। বিভিন্ন কারখানার কর্মীদের নিরাপত্তা জুতা বা সেইফটি শু বিক্রি হয় ৯০০ টাকায়, যার প্রকৃত মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা।
এ ছাড়া হাস পাপিসের শু ছাড়কৃত মূল্যে ২ হাজার টাকা এবং নর্থস্টারের স্নিকার ৭০০ টাকায় রাখা হয়েছে। বাটার ঐতিহ্যবাহী চামড়ার জুতা ও ফ্লোর স্যান্ডেল বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়, আর স্পঞ্জ স্যান্ডেলের দাম মাত্র ৪৫ টাকা।
তবে সব ক্রেতাই নিশ্চিন্তে কেনেন না। গত শনিবার সন্ধ্যায় শোরুমে এসে সানজিদা আক্তার বেশ কিছুক্ষণ ঘুরেও জুতা না কিনে ফিরে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, তিনি জানতেন না এখানে এত ছাড়ে জুতা বিক্রি হয়; তবে বেশ কিছু জুতার মান কমে গেছে বলে তার মনে হয়েছে, আর টাকা খরচ করে কিনলে ভালো হবে কি না সেই সন্দেহে তিনি শেষ পর্যন্ত জুতা না কিনেই ফিরছিলেন।
বাটার শোরুমের এক কর্মী জানান, কারখানায় জুতা উৎপাদনের পর মান যাচাই করা হয়; মান যাচাইয়ে যেসব জুতা আটকে যায়, সেগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালোগুলো এই শোরুমে ছাড়কৃত মূল্যে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। তার ভাষায়, সাধারণ চোখে এসব জুতার ত্রুটি ধরা কঠিন এবং এগুলো মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জুতার মতোই অনেকটা টেকসই হয়; তবে কোনো জুতায় খুব বড় ত্রুটি থাকলে সেটি এই শোরুমেও বিক্রির জন্য আনা হয় না।
শোরুমের কর্মীদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসেন, বিশেষ করে অফিসগামী মানুষের আনাগোনা বেশি থাকে। কারওয়ান বাজারের বিক্রয়কেন্দ্রটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।



