হরমুজ প্রণালিতে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা, কেশম দ্বীপে পাঁচ বিস্ফোরণের শব্দ

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সোমবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, এই অভিযান ছিল আত্মরক্ষামূলক হামলা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ‘মার্কিন সম্পদের বিরুদ্ধে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারকারী ইরানিরা’।
একই সময়ে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ইরান যত দ্রুত সম্ভব একটি সমঝোতা চায়। এটা ঘটতে পারে!’
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ও ট্রাম্প উভয়েই ‘আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা’ নিয়ে আশাবাদী।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় পরামর্শ ও আলোচনা খুবই নিবিড়ভাবে চলছে।’
আরাঘচি আরও বলেন, ‘এই আলোচনায় কাতার ও পাকিস্তান খুবই সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।’
হামলাগুলো চালানো হলো মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে, যেখানে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া রিপাবলিকান পার্টি।
তবে ইরানে ওয়াশিংটনের যুদ্ধ ক্রমেই রাজনৈতিক বিতর্কের বড় বিষয় হয়ে উঠেছে এবং এটি ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে মার্কিনদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।




