গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত, আহতের ক্ষতে মারা গেলেন পঞ্চম জন
গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই দিন আগের হামলায় আহত আরেকজন ক্ষতের কারণে মারা গেছেন বলে চিকিৎসা সূত্র ও গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
দক্ষিণের খান ইউনিসে পৃথক দুটি ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুজন নিহত হন। চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-মুসাদ্দার এলাকায় ড্রোন হামলায় তৃতীয় একজন নিহত হন।
গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যানবাহনে ইসরায়েলি হামলায় চতুর্থ ব্যক্তি নিহত হন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা নিহত ব্যক্তিকে হানি হামেদ কাহিল হিসেবে শনাক্ত করেছে। ওই হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
ওয়াফা আরও জানিয়েছে, ইউসুফ আবু ইউনিস নামে আরেকজন রোববারের ইসরায়েলি হামলায় পাওয়া আঘাতে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সোমবার রিপোর্ট হওয়া মৃতের সংখ্যা পাঁচে দাঁড়ায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা তিনটি হামলায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেছে। তবে এসব হামলা সম্পর্কে তারা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
গাজা সিটির আরেক এলাকা জেইতুনে সোমবার একটি কমিউনিটি কিচেনের মিনিবাসে হামলায় তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৯৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৭৪৮ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের একই হিসাবে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে মোট অন্তত ৭৪ হাজার ৬০৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭২ জন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ হামলাগুলো এমন সময়ে হলো, যখন শীত আসার আগে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গাজায় তথাকথিত শান্তি পরিকল্পনা তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত বোর্ড অব পিসের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ সোমবার ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। তাঁবু আনার অনুমতি চাওয়া এবং পুনর্গঠন ত্বরান্বিত করার পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়াই তাঁর সফরের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
গাজায় আশ্রয়ের প্রয়োজন কতটা বড়, তার চিত্র দিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা। সংস্থাটি গত ৯ অক্টোবর বলেছিল, প্রায় ২০ লাখ মানুষের আশ্রয় সহায়তা প্রয়োজন এবং গাজার অর্ধেক তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয় বদলানো দরকার। শীত ঘনিয়ে আসায় পরিবারগুলো খোলা অবস্থায় পড়ে থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে।




