বিক্রি বাড়াতে হিমশিম আসডায় নতুন প্রধান নির্বাহী হলেন মরিসন্সের সাবেক প্রধান ডেভিড পটস

যুক্তরাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম সুপারমার্কেট আসডা নতুন প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দিয়েছে। মরিসন্সের সাবেক প্রধান ৬৯ বছর বয়সী ডেভিড পটস অবিলম্বে দায়িত্ব নিচ্ছেন, কারণ প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে।
আসডা জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ব্যবসা চালিয়ে আসা ৭৩ বছর বয়সী নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যালান লেইটন এখন নির্বাহী দায়িত্ব ছেড়ে অনির্বাহী ভূমিকায় যাবেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের ‘দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত কর্মসূচি’ নিয়ে কাজ করবেন।
পটসের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল টেসকোতে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে দোকানের তলায় কাজ শুরু করে তিনি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় সুপারমার্কেটটিতে কয়েক দশক কাজ করেন এবং একপর্যায়ে এর যুক্তরাজ্য ব্যবসার প্রধান হন। পরে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি মরিসন্সের প্রধান নির্বাহী ছিলেন।
মরিসন্স ২০২১ সালে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ক্লেটন, ডুবিলিয়ার অ্যান্ড রাইসের কাছে বেসরকারি মালিকানায় যাওয়ার পর পটস সেই দায়িত্ব ছাড়েন।
আসডা ও মরিসন্স দুটোই এখন তীব্র প্রতিযোগিতা ও উচ্চ ঋণের চাপে রয়েছে। আসডাকে টপকে যুক্তরাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম সুপারমার্কেট হওয়ার পথে রয়েছে অ্যালডি; দুটির মধ্যে ব্যবধান প্রায় এক শতাংশ পয়েন্ট।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডপ্যানেল বাই নিউমারেটরের সর্বশেষ হিসাবে, দাম কমানো এবং পণ্যের পরিসর ও মজুতের প্রাপ্যতা উন্নত করার চেষ্টা সত্ত্বেও ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাসে আসডার বিক্রি কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রধান নির্বাহী খুঁজতে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পটসের নিয়োগ এসেছে। তবে এটি বিস্ময়কর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ লেইটন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কোনো প্রার্থী দিয়ে এই পদ পূরণের প্রত্যাশা করেন।
লেইটন বলেছেন, পটসকে নিয়োগ দিতে পেরে তিনি ‘সত্যিই উচ্ছ্বসিত’। তাঁর ভাষায়, ‘গত দুই বছরে আমরা ব্যবসাকে স্থিতিশীল করেছি, কিছুটা প্রবৃদ্ধিতে ফিরিয়েছি এবং আমাদের ফর্মুলা ফর গ্রোথ কৌশলের মাধ্যমে আসডাকে ‘শুধু সুপারমার্কেটের চেয়ে বেশি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা শুরু করেছি। ডেভিডের এই শিল্পে অসাধারণ রেকর্ড রয়েছে; রূপান্তরের পরবর্তী ধাপের জন্য ঠিক তাঁর অভিজ্ঞতাই এখন আমাদের দরকার।’
পটস বলেছেন, আসডা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় ব্যবসা, যাকে তিনি বহু বছর ধরে প্রশংসা করেছেন এবং যার বিরুদ্ধে ব্যবসা করেছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে, তবে বড় সুযোগ এখনো বাকি আছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যজুড়ে পরিবারগুলোকে মূল্য দেওয়া সবসময়ই আসডার ডিএনএতে ছিল। প্রতি সপ্তাহে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা উন্নত করলে গ্রাহকেরা তা পকেটে অনুভব করবেন, ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ২৯৬ জন কর্মীসহ সব অংশীজনের উপকার হবে। বড়দিন সামনে রেখে আসডার দাম কম রাখাই এখন ব্যবসার স্পষ্ট লক্ষ্য বলে তিনি জানান।



