কেশমে মার্কিন হামলার খবরের পর ‘নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের’ হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের স্পিকার গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কৌশলগত ভুল ‘যুদ্ধে একটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র’ খুলে দেবে। কেশম দ্বীপে ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) একটি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় মার্কিন বিমানবাহিনীর জেট হামলা চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
পার্লামেন্টে গালিবাফ বলেন, ইরান প্রতিরক্ষাগত প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও উত্তেজনা ঠেকানোর দায়িত্ব ওয়াশিংটনের ওপরই বর্তায়। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধ ঠেকানোর বল এখন আমেরিকার কোর্টে।
এর আগে ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনা ও ফার্স জানায়, কেশম দ্বীপ, হেঙ্গাম ও বন্দর আব্বাসের বাসিন্দারা রাতভর ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও কম্পনের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে কেশম থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি জেট দ্বীপটিতে আইআরজিসির ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায়। অভিযানটিকে সীমিত এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এসব খবর নিশ্চিত বা অস্বীকার করে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ইরানের কোনো সামরিক বা সরকারি কর্মকর্তাও দ্বীপটিতে সরাসরি হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি।
আইআরজিসি আলাদাভাবে জানিয়েছে, তাদের ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করেছে।
গালিবাফ বলেন, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ইরানের সামরিক কৌশল নির্ধারণ করে গেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডাররা ও আইআরজিসির ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখা নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গত সপ্তাহে বৈঠক করে ‘ভৌগোলিক সীমা ছাড়া জবাব’ দেওয়ার এবং সংঘাত কখন শেষ হবে, তা তেহরানের নির্ধারণের অধিকার রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পার্লামেন্ট সদস্য মানুচেহর মোত্তাকি রোববার বলেন, তাঁর ব্যাখ্যায় ওই বক্তব্যের অর্থ হলো ব্রিটেন, ইতালি, পর্তুগাল ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও যেকোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধ বাধলে তা আর আঞ্চলিক যুদ্ধ থাকবে না, তা হবে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া যুদ্ধ।
তেহরানভিত্তিক হামশাহরি পত্রিকা মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইরান তার ‘টার্গেট ব্যাংক’ হালনাগাদ করেছে এবং ‘ভৌগোলিক সীমা ছাড়া জবাব’ কৌশলের আওতায় ইউরোপে মার্কিন সহায়ক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার একটি পরিস্থিতি পরীক্ষা করে দেখছে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যস্থতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই, কাতার ও ওমানের ইতিবাচক ভূমিকাকে তেহরান মূল্য দেয় এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রেখেছে।



