হুথি হামলার নিরাপত্তা শঙ্কায় সৌদি আরবে এশিয়ান কাপ প্রায় এক বছর পিছিয়ে দিল এএফসি
সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থগিত করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে সৃষ্ট আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
টুর্নামেন্টটি আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়োজনের কথা ছিল। নতুন সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতাটি আগামী বছরের ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ আসরটি প্রায় এক বছর পিছিয়ে গেল।
এএফসি জানিয়েছে, নতুন এই সময়সূচি চূড়ান্ত করতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
সৌদি আরব এই প্রথম ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান কাপ এককভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে। আসরটি দেশটির ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টুর্নামেন্টের জন্য নির্ধারিত আটটি ভেন্যুর মধ্যে পাঁচটি স্টেডিয়ামই রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত। আসরের মোট ৫১টি ম্যাচের মধ্যে ফাইনালসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি ম্যাচই রিয়াদের কিং ফাহদ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামসহ স্থানীয় ভেন্যুগুলোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় হুথি বিদ্রোহীদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, বিমানবন্দরটিতে গত ১১ দিনে অন্তত ২০টি হামলায় ১৭ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি দল, কর্মকর্তা ও ফুটবলপ্রেমীদের চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এএফসি জানায়, অঞ্চলে উদ্ভূত ব্যতিক্রমধর্মী পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য লজিস্টিক জটিলতা ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আয়োজক কমিটি সূচি পুনর্নির্ধারণের অনুমোদন দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব অংশগ্রহণকারী দল, ম্যাচ কর্মকর্তা, দর্শক ও অংশীজনদের সামগ্রিক সুরক্ষার স্বার্থেই এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া অপরিহার্য ছিল।
অথচ সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যেও গত মাসে এএফসি প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান আশ্বস্ত করেছিলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। বাস্তব নিরাপত্তা সংকটে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে গেল এই মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা।

