আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তিন জেলায় গ্রেপ্তার ৪০ জন প্রকৃত শ্রমিক নন: ডিআইজি মুস্তাফিজুর

ঢাকার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর পদ্মার মোড় এলাকায় আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, তিন জেলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৪০ জনের কেউই প্রকৃত শ্রমিক নন; তারা সবাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী।
ডিআইজি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কারখানার নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। তবে শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রিফিংয়ের পর বেলা দুইটার পর তিনি আশুলিয়া ইপিজেড এলাকায় যান; সেখানেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
হেমায়েতপুরে ডিআইজি বলেন, ‘বর্তমানে শিল্পাঞ্চলে ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ ও ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কারখানার নিরাপত্তা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। সাভার এলাকার কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
গ্রেপ্তারের হিসাব তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, ‘গতকাল ঢাকা জেলায় ১৫ জন, গাজীপুরে ৮ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১৭ জন বিশৃঙ্খলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সাভার এলাকায় এ-সংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছে। অন্য মামলাগুলোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের কেউই প্রকৃত শ্রমিক নন; তারা সবাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। তাদের সেভাবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। কেউ শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে শিল্প খাতে কিংবা পুরো দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের প্রতি পুলিশের কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে। কোনোভাবেই তাদের অশুভ উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া হবে না।’
বিশৃঙ্খলাকারীদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ডিআইজি বলেন, তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, তা পুলিশ অনুসন্ধান করছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে গোয়েন্দা প্রতিবেদন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারা অর্থের জোগানদাতা, কারা উসকানিদাতা, কারা সরাসরি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং কারা তাদের সহযোগিতা করছে—সবকিছু পর্যবেক্ষণ ও নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মজুরি প্রশ্নে ডিআইজি বলেন, ‘গত পরশুদিন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। তাই এখন যারা বাইরে রয়েছে, তাদের আর শ্রমিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
শ্রমিক ও কারখানার মালিকপক্ষকে আশ্বস্ত করে ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা নিরাপদে কাজকর্ম চালিয়ে যান। আমরা আপনাদের নিরাপত্তা দেব। মালিকপক্ষকেও বলতে চাই, আপনারা নিশ্চিন্তে কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যান। আমরা আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’ শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কারখানার নিরাপত্তা এবং পথচারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডিআইজি বলেন, কোনোভাবেই তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। পুলিশ কঠোর আইনগত অবস্থানে রয়েছে এবং থাকবে।




