নতুন মার্কিন হামলার পরও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে আশার কথা বলল কাতার, প্রস্তাব বিনিময় চলছে

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পরও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো নিয়ে আশা ছাড়েনি কাতার। মঙ্গলবার দোহায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেছেন, আশা না থাকলে কোনো আলোচনাই চলত না।
সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে আল আনসারি জানান, মধ্যস্থতাকারীরা এই মুহূর্তে বাস্তব সময়ে প্রস্তাব বিনিময় করছেন। তেহরানে আলোচনার পর এই প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর তথ্য অনুযায়ী, কাতারের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেছে। প্রতিনিধিদলটি সোমবার সন্ধ্যায়ই দোহায় ফিরে আসে। এখন ওয়াশিংটন ও তেহরান প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে বলে তিনি জানান।
আল আনসারি বলেছেন, কাতার একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির দিকে এগোনোর চেষ্টা করছে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য আস্থা তৈরি করা, যাতে দুই পক্ষই দেখাতে পারে যে তারা নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি পালন করবে।
তিনি বলেন, আস্থা তৈরি হয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ দিয়ে নয়। তাঁর মতে, একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্থায়ী শান্তির দিকে প্রথম ধাপ হতে পারে।
হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে রাতভর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সত্ত্বেও দোহা আলোচনাকে বিচার করছে প্রস্তাবগুলোর প্রতি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখে, প্রকাশ্য হুমকি ও বক্তব্য দেখে নয়—ব্রিফিংয়ে এমন কথাই বলেছেন আল আনসারি।
চলমান এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা দিয়ে। এরপর হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পৃথকভাবে অবরোধ আরোপ করে। তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।
আল আনসারি বলেছেন, নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে কোনো আপস চলবে না। কাতার বা অন্য কোনো দেশের জাহাজের প্রতি হুমকির নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জাহাজ চলাচলে হামলা ও অন্যান্য সামরিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি এবং তা আলোচনা প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করবে।
আল আনসারি জানান, আরও উত্তেজনা ঠেকাতে কাতার পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে।
অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া বা পরমাণু আলোচনা শুরুর আগে তেহরানের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।




