হোমস তেল শোধনাগারে হামলার ছক ভণ্ডুলের দাবি সিরিয়ার, অস্বীকার হিজবুল্লাহর
সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির মধ্যাঞ্চলের হোমস তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার একটি ছক ভণ্ডুল করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সেলের সদস্যদের আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সিরিয়ার জেনারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (জিআইএস) এক্সে জানিয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় এই আগাম নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়।
সংস্থাটি আটক দুই ব্যক্তিকে তাঁদের নামের আদ্যক্ষর ‘এম এস’ ও ‘বি শ’ দিয়ে শনাক্ত করেছে। তবে অভিযানের সময় বা স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছে থাকা বিস্ফোরক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে, যেগুলো ছকটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে জিআইএস জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে সিরিয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি আবারও বলেছে, সিরিয়ার ভূখণ্ডে তাদের কোনো উপস্থিতি নেই এবং সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো তৎপরতায় তারা জড়িত নয়।
সিরিয়ার প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে হিজবুল্লাহ সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর পক্ষে লড়েছিল। তবে ২০২৪ সালে আসাদের পতনের পর থেকে দামেস্কের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সম্পর্কের তীব্র অবনতি হয়েছে।
সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, রকেট হামলা ও অস্ত্র চোরাচালানসহ একের পর এক অভিযোগ তুলেছে।
হোমস শোধনাগার সিরিয়ার দুটি তেল শোধনাগারের একটি; অন্যটি বানিয়াস শোধনাগার। দেশটিতে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই শোধনাগারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একই ধরনের আরেক অভিযানে জিআইএস রোববার জানায়, দেইর আজ জর প্রদেশে সন্দেহভাজন আইএসআইএলের (আইসিস) একটি সেলের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
রোববারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তদন্তে দেখা গেছে আটক ব্যক্তিরা ওই প্রদেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সেসবের সর্বশেষটি ছিল মায়াদিন শহরের আল-রশিদ মসজিদের কাছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদস্য ইব্রাহিম আল-জাসেমকে গুলি করে হত্যা।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ওই অভিযানে সেলটির আস্তানা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের যোগসূত্র উদ্ঘাটন করে বিচারের আওতায় আনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তদন্ত চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছিল, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত আইএসআইএলের একটি সেলের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর সিরিয়ান ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি জানায়, দামেস্কের গ্রামাঞ্চলে তিশরিন স্টেশনে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণের পর দেইর আলি, নাসিরিয়া ও তিশরিন বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়, কারণ সেগুলো চালাতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
১৫ অক্টোবর সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি জানায়, বানিয়াস থেকে হোমসে পেট্রোলিয়াম পণ্য বহনকারী পাইপলাইন পশ্চিম হোমসের গ্রামাঞ্চলের হাদিদা গ্রামের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে। সিরিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা ছিল সেটি।
গত মাসে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দামেস্কের গ্রামাঞ্চলে একটি পুলিশ টহল দলকে লক্ষ্য করে হামলার ছক ভণ্ডুল করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, আইএসআইএলের একটি সেল ওই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং রাক্কা, আলেপ্পো, ইদলিব ও হোমসে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দলটি দায়ী ছিল।
গত বছরের নভেম্বরে দামেস্ক আইএসআইএলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেয়। ২০১৪ সালে গঠিত এই জোট সিরিয়া ও ইরাকে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে।


