আবুধাবি বৈঠক পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পথ খুলবে, আশা জেলেনস্কির; বার্লিনে মের্ৎসের সঙ্গেও আলোচনা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে আসন্ন আলোচনা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ নেতাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পথ খুলে দেবে বলে তিনি আশা করেন। মঙ্গলবার বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন।
১০ ও ১১ নভেম্বর উপদেষ্টা পর্যায়ের এই আলোচনা হওয়ার কথা। জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই ফরম্যাটে কাজ এবং আমাদের অন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেতাদের পর্যায়ে ত্রিপক্ষীয় ফরম্যাটের পথ খুলে দেবে।’
আবুধাবি আলোচনা প্রসঙ্গে মের্ৎস বলেন, রাশিয়া শেষমেশ যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী শান্তিচুক্তি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তা ঘটতে দেখছি না।’
জেলেনস্কির বার্লিন সফর নিরাপত্তার কারণে আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি। অবতরণের পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, কূটনৈতিক সমন্বয়, আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা এবং ইউক্রেনের জ্বালানি খাতকে সহায়তা করাই আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকবে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সোমবার রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দফা আলোচনার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উত্তেজনা প্রশমন, মানবিক প্রচেষ্টা এবং শান্তির দিকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কথা হবে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেদিনস্কির নেতৃত্বে একটি রুশ প্রতিনিধিদল আগের মতোই আলোচনায় অংশ নেবে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে।
আসন্ন আলোচনার আগে গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় শহর ওলেশকিতে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের মানবাধিকার অম্বুডসম্যানদের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়; এতে মধ্যস্থতা করেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরুর পর থেকে পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং তাঁদের প্রতিনিধিরা মাত্র কয়েক দফা আলোচনায় বসেছেন।
ইউরোপীয় সরকারগুলো আলোচনায় যুক্ত থাকার ওপর জোর দিলেও আবুধাবির টেবিলে তাদের থাকার সম্ভাবনা কম। এর পরিবর্তে এ সপ্তাহে ব্রাসেলসে জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন দূতদের বৈঠক হওয়ার কথা, যেখানে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও ইউরোপের যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।
জেলেনস্কি বলেছেন, আগামী বছর ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ইউক্রেনের অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি ইউরো (৭ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার) প্রয়োজন।
এ ছাড়া ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও পুতিনের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হতে পারে। প্রায় একই সময়ে ইউক্রেনের পক্ষে থাকা প্রায় ৩৫ দেশের জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বার্লিনে বৈঠকের কথা রয়েছে।
এরপর ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ফ্লোরিডায় জি২০ সম্মেলন হবে; আক্রমণ শুরুর পর প্রথমবারের মতো পুতিন সেখানে যোগ দেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।



