কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে কবিরাজ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসার নামে এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে তাইজুল ইসলাম মুসা (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলাপাড়া পৌর শহরের চৌরাস্তাসংলগ্ন এলাকা থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৮) তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মুসা কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রাজ্জাক মোল্লার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ায় এলাকায় তিনি ‘মুসা হুজুর’ নামে পরিচিত।
এ ঘটনায় গত ৩১ অক্টোবর কিশোরীর সৎ বাবা বাদী হয়ে মুসাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর সৎ বাবা তাঁর স্ত্রী ও সৎ মেয়েকে নিয়ে দুই মাস ধরে কলাপাড়া শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ওই কিশোরী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় দুই মাস আগে পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য মুসার সঙ্গে পরিবারটির যোগাযোগ হয়। এরপর চিকিৎসার কথা বলে মুসা প্রায়ই তাঁদের বাসায় যাতায়াত করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে কিশোরীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরীর সৎ বাবা বাসায় না থাকার সুযোগে মুসা ১০-১১ জনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। এ সময় মুসার সঙ্গে যাওয়া ব্যক্তিরা গোপনে সেই মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকবার তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা হয়। এ ছাড়া কিশোরীর মায়েরও অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে এজাহারে বলা হয়েছে।
একপর্যায়ে কিশোরী মুসাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে মুসার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কিশোরী ও তাঁর মায়ের কাছে ভিডিও পাঠান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর মুসাসহ তাঁর সহযোগীরা আবারও ওই বাসায় গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে করবেন না বলে জানান এবং তাঁদের কথামতো না চললে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




