জাবিতে পরিচালক নিয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের তালা, তালা ভেঙে উপাচার্যকে বের করল ছাত্রদল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (আইসিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। পরে ফটকের তালা ভেঙে উপাচার্যকে বের করে আনেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশেষ সিন্ডিকেট সভা চলাকালে শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেই তালা ভেঙে উপাচার্যকে বের করে আনেন। এতে নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মানুযায়ী পরিচালক পদে নিয়োগের দাবি জানালেও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস না পেয়ে তাঁরা ফটক আটকে দেন।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগের পর থেকেই শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এই নিয়োগ বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান।
ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দর্শন বিভাগের একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা চাই আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে কেউ দায়িত্ব পান। বিশেষ করে এ মুহূর্তে সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হককে দিলে বিভাগের জন্য ভালো হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হিসেবে অভিযুক্ত করে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।’ তিনি আরও বলেন, হামিম কামরুল হককে না দিলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালিকে দায়িত্ব দেওয়া হোক, যিনি ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে দর্শন বিভাগের কাউকে তাঁরা চান না।
অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন বলে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন। তাই প্রশাসন যাকে দায়িত্ব দেবে, সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে জানান তাঁরা। একই সঙ্গে তালা দেওয়ার সঙ্গে জড়িতরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রদল নেতারা।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা বা প্রয়োজন হলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করবে, কথা বলবে। কিন্তু রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।’ যারা তালা দিয়েছেন, এর পেছনে যেসব শিক্ষক আছেন এবং যারা ইন্ধন দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




