জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে ব্রিটিশ আইনজীবী ডাপো আকান্দে: প্রায় এক দশক পর যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক জয়

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচারক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্রিটিশ আইনজীবী ডাপো আকান্দে। আগের এক ব্রিটিশ বিচারক পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হওয়ার প্রায় ১০ বছর পর এই নির্বাচনকে যুক্তরাজ্যের জন্য বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আকান্দে এখন আইসিজের ১৫ জন বিচারকের একজন হিসেবে ন্যূনতম নয় বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন।
অধ্যাপক আকান্দে মূলত নাইজেরিয়ায় আইনজীবী হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি এখন যুক্তরাজ্যের শীর্ষ আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের একজন, জন আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক এবং অক্সফোর্ডের অল সোলস কলেজের ফেলো। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন কমিশনের নির্বাচিত সদস্য। আইসিজেসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালে তিনি কৌঁসুলি, উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর আকান্দে বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নির্বাচিত হয়ে তিনি গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছেন। যেসব রাষ্ট্র তার ওপর আস্থা রেখেছে, তাদের সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের এবং আইনের বিশ্বস্ত ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের ভিত্তিতে মামলার সিদ্ধান্ত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। আজ নির্বাচিত অন্য সহকর্মীদের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইসিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রাখতে তিনি আগ্রহী বলেও জানান।
২০১৭ সালে স্যার ক্রিস্টোফার গ্রিনউড অপ্রত্যাশিতভাবে ভারতীয় প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে আসনটি হেরে যান। তখন জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের অবস্থান এবং আইসিজের পরামর্শমূলক মতামত মেনে চলার রেকর্ড নিয়ে দেশটিতে আত্মসমালোচনা শুরু হয়। সেটিই ছিল প্রথমবার যখন আদালতে কোনো ব্রিটিশ বিচারক ছিলেন না।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে পরিচিত আইসিজে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিয়ে কাজ করে। দখলদার শক্তি হিসেবে গাজার জনগণের প্রতি ইসরায়েলের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা নিয়ে ধারাবাহিক মতামতের কারণে সম্প্রতি আদালতটি বিশ্বব্যাপী মনোযোগ কেড়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের দখলের বিতর্কিত আইনি অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করে মরিশাসের সমর্থিত একটি প্রস্তাব আইসিজেতে পাঠানোর ভোটে যুক্তরাজ্য ৯৪-১৫ ভোটে হেরে যায়। পরে আইসিজে মরিশাসের পক্ষে রায় দেয় এবং বর্তমান লেবার সরকার কনজারভেটিভ সরকারের আমলে শুরু হওয়া আলোচনা সম্পন্ন করে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তির কারণে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে চুক্তিটি সম্পন্ন করার আইনি প্রক্রিয়া আটকে আছে।
যুক্তরাজ্যের লর্ড চ্যান্সেলর অ্যালেক্স নরিস আকান্দের পক্ষে জোরালো প্রচার চালিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন এক সময়ে যখন আন্তর্জাতিক আইন চাপের মুখে, অধ্যাপক আকান্দে আদালতের প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা, আইনি কঠোরতা, বিচারবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রশস্ততা নিয়ে এসেছেন এবং তিনি আদালতের কাজে শক্তিশালী অবদান রাখবেন।
নরিস আরও বলেন, যুক্তরাজ্য আদালতের একজন অবিচল সমর্থক; দেশটি আদালতের বাধ্যতামূলক এখতিয়ার মেনে নিয়েছে এবং যেসব রাষ্ট্র এখনো তা করেনি, তাদের আদালতের বিধি অনুযায়ী এই এখতিয়ার মেনে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে আবারও উৎসাহিত করছে যুক্তরাজ্য।



