অতিরিক্ত সময়ে হারের পর পিকেন্সকে আরও বল দেওয়ার দাবি কাউবয়েজ মালিক জেরি জোন্সের

অ্যারিজোনা কার্ডিনালসের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ৩৩-৩০ ব্যবধানে হৃদয়বিদারক হারের পর ডালাস কাউবয়েজের তারকা ওয়াইড রিসিভার জর্জ পিকেন্সকে আরও বেশি বল দেওয়ার দাবি তুলেছেন দলটির মালিক জেরি জোন্স। রেডিও অনুষ্ঠান ১০৫.৩ দ্য ফ্যানে হাজির হয়ে জোন্স সরাসরি বলেছেন, পিকেন্সের দিকে আরও বেশি বল যাওয়া দরকার।
ওই ম্যাচে পিকেন্স মাঠে ছিলেন সম্ভাব্য ৭৪টি স্ন্যাপের মধ্যে মাত্র ৪২টিতে, যা পেশাদার ক্যারিয়ারে কোনো ম্যাচে তার সবচেয়ে কম স্ন্যাপ খেলার হারগুলোর একটি। এর বাইরে গত মৌসুমের নিয়মিত পর্বের শেষ ম্যাচটিই ছিল এমন একটি ম্যাচ, যার ফলাফল কোনো কিছুই বদলাতে পারত না। পুরো ম্যাচে পিকেন্সের দিকে বল ছোড়া হয়েছে মাত্র চারবার, আর জোন্সের মতে এটা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
জোন্স বলেছেন, ‘তার দিকে আরও বেশি বল আসা দরকার। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন সেদিন মাঠে আমরা ভিন্নভাবে কী করতে পারতাম, তাহলে উত্তর হলো—বলটা ওই দিকেই বেশি নেওয়া এবং সেই চাপটা প্রয়োগ করা। ’
কাউবয়েজের মূল পরিকল্পনা ছিল বল মাটিতে ছুটিয়ে খেলা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। পুরো ম্যাচে দলটি ৩৯ বার রানিং প্লে চালিয়ে মাত্র ৯৩ গজ এগোতে পেরেছে। দলের মালিক নিজেই স্বীকার করেছেন, মাটির খেলায় এই ব্যর্থতা তাকে অবাক করেছে।
অ্যারিজোনার ডিফেন্সিভ লাইনকে কৃতিত্ব দিয়েছেন জোন্স। তার ভাষায়, ‘অ্যারিজোনার ডিফেন্সিভ লাইনের প্রশংসা করতেই হয়। আমাদের বিপক্ষে তারা যেমন খেলেছে, তেমন খ্যাতি তাদের ছিল না। তাই বিষয়টি আরও হতাশাজনক। ’
ম্যাচ শেষে পিকেন্সের হতাশা ছিল চোখে পড়ার মতো। অতিরিক্ত সময়ে কার্ডিনালস জয়সূচক ফিল্ড গোলটি করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি টানেল ধরে ছুটে চলে যান কাউবয়েজের ড্রেসিংরুমের দিকে।
এই প্রথম নয় যে পিকেন্সের দিকে বল কম গেছে। সপ্তম সপ্তাহে ফিলাডেলফিয়া ঈগলসের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচেও তার দিকে বল ছোড়া হয়েছিল মাত্র ছয়বার। চলতি মৌসুমে আট ম্যাচে পিকেন্সের সংগ্রহ ৩৯টি ক্যাচ, ৫৩৩ গজ ও দুটি টাচডাউন।
গত মৌসুমের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যটা স্পষ্ট। গতবার পিকেন্স ৯৩টি ক্যাচে ১ হাজার ৪২৯ গজ ও নয়টি টাচডাউন করেছিলেন। এ মৌসুমে তার সেই ধার এখনো দেখা যাচ্ছে না।
বেতনের হিসাবও এই হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ট্যাগের আওতায় পিকেন্স এ মৌসুমে পাচ্ছেন ২ কোটি ৭২ লাখ ৮৯ হাজার ডলার। জোন্সের আশা ছিল, পিকেন্স ও ল্যাম্ব মিলে লিগের অন্যতম সেরা ওয়াইড রিসিভার জুটি গড়বেন এবং প্লে-অফে ওঠা একটি দলের মূল শক্তি হবেন।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আট ম্যাচ শেষে কাউবয়েজের জয়-পরাজয়ের রেকর্ড দাঁড়িয়েছে ৩-৫। বছরের শেষে পিকেন্স ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাবেন বলে সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—ভবিষ্যতের সম্পদের বিনিময়ে জোন্স তাকে অন্য দলে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন কি না।
হারের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রধান কোচ ব্রায়ান শটেনহাইমার ও কোয়ার্টারব্যাক ড্যাক প্রেসকট। জোন্স চাইছেন, রোববার দুপুর ১টায় (পূর্বাঞ্চলীয় সময়) ধুঁকতে থাকা ইন্ডিয়ানাপোলিস কোল্টসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই কাউবয়েজ ও পিকেন্স দুজনেই ছন্দে ফিরুক।




