মাঠে সংঘর্ষের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল, তদন্তে স্পেনের পুলিশ

স্পেনের তেনেরিফে ক্লাবের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল মাঠে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষের একদিন পর হাসপাতালে মারা গেছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) তেনেরিফের নিজ মাঠ সান্তা ক্রুস দে তেনেরিফেতে এফসি আন্দোরার সঙ্গে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে এই সংঘর্ষ ঘটে। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩০ বছর।
ম্যাচটি তখন ২-২ গোলে ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল। অতিরিক্ত সময়ে সতীর্থের লম্বা পাস ধরতে মাঠের মাঝখান দিয়ে ছুটছিলেন দে মিগেল। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের গোল এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে আসা আন্দোরার গোলরক্ষকের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। ছবির বিবরণীতে গোলরক্ষকের নাম এসেছে হেসুস ওওনো। আঘাতটা এতটাই প্রবল ছিল যে দে মিগেল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সেখানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
সতীর্থদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দেমি’ নামে পরিচিত, আর স্পেনের ফুটবলভক্তদের কাছে হেসুস দে মিগেল নামেই। তার মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার নিশ্চিত করা হয়। বাম পায়ের এই স্ট্রাইকারের উচ্চতা ছিল ৬ ফুট ২ ইঞ্চি, এবং আকাশের বল দখলের লড়াইয়েই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।
দে মিগেলের জন্ম ১৯৯৬ সালে মাদ্রিদে। ২০১৫ সালে লেগানেসের রিজার্ভ দল দিয়ে শুরু হয় তার ক্যারিয়ার। এরপর স্পেনের নিম্ন বিভাগের বেশ কয়েকটি ক্লাবে ঘুরে ঘুরে খেলেছেন তিনি, বেশির ভাগই ছিল স্পেনের রাজধানীর আশপাশের ক্লাব। পেশাদার ফুটবল থেকে রুটিরুজি জোগাড় করতে অনেক খেলোয়াড়ের মতো তাকেও ক্লাব বদলাতে হয়েছে বারবার।
তার সবচেয়ে ফলপ্রসূ মৌসুমটি আসে ২০২৩ সালে কাস্তেয়োনে যোগ দেওয়ার পর। ওই মৌসুমে তার ১৬ গোলে ভর করে ক্লাবটি দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত হয়। তবে দ্বিতীয় বিভাগে গোলের ধারা ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে মূল ভূখণ্ড ছেড়ে তিনি পাড়ি জমান কানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফেতে। তৃতীয় বিভাগে নেমে এসে আবার গোল পেতে শুরু করেন তিনি—প্রথম পাঁচ ম্যাচেই করেন ছয় গোল, মৌসুম শেষ করেন ১১ গোল নিয়ে। তার এই পারফরম্যান্সে ভর করেই সাদা-নীলের ক্লাবটি আরেকবার উন্নীত হয়।
দে মিগেল রেখে গেছেন গত বছর জন্ম নেওয়া তার কন্যা ও কন্যার মাকে। সাবেক সতীর্থ ফের্নান্দো রোমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বন্ধুর মৃত্যুতে তিনি বিধ্বস্ত। দে মিগেলকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘নম্র, পরিশ্রমী… সবার ওপরে ভালো মানুষ’ হিসেবে।
তেনেরিফে ক্লাব জানিয়েছে, পরিবারের অনুরোধে দে মিগেলের মরদেহ তোলেদো প্রদেশের নাবাএরমোসায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সতীর্থ ও ক্লাব কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাকে শেষ বিদায় জানাবেন।
ক্লাব সভাপতি ফেলিপে মিনিয়ামব্রেস বলেছেন, ‘দেমিকে তার প্রাপ্য শ্রদ্ধা আমাদের দিতেই হবে। আর সেই মুহূর্ত থেকে আমরা তাকে সব সময় হৃদয়ে ধারণ করে রাখব। ’
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মাদ্রিদে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখের চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের আগে বড় পর্দায় দে মিগেলের ছবি দেখিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এদিকে তার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্পেনের পুলিশ। সংঘর্ষটি অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার পর্যায়ে পড়ে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটি বিচারিক তদারকির অধীনে রয়েছে। স্পেনের আইন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাসহ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে তদন্ত বাধ্যতামূলক।
তবে সান্তা ক্রুস দে তেনেরিফের প্রধান প্রসিকিউটর হোসে লুইস সানচেস-হাউরেগি স্পেনের সংবাদ সংস্থা এএফইকে বলেছেন, সংঘর্ষটি খেলা চলাকালীন ঘটায় ফৌজদারি কার্যক্রমের সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষকে প্রথমে রেফারির প্রতিবেদন ও ক্রীড়া শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত বিবেচনা করতে হবে।




