আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে পাঁচ বিচারক নির্বাচিত, ঝুলে আছে রেকর্ড ২৪টি মামলা
জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) নয় বছর মেয়াদের জন্য পাঁচজন বিচারক নির্বাচিত করেছে। আদালতটি এখন রেকর্ড পরিমাণ মামলার ভার সামলাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যার মামলা।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। জিততে হলে প্রার্থীদের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদ—দুই জায়গাতেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হয়।
১৫ সদস্যের প্যানেলে নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের দাপো আকান্দে, ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া আলাব্রুন, জর্ডানের মাহমুদ দাইফাল্লাহ হমুদ, সিঙ্গাপুরের রেনা লি এবং কেনিয়ার ফিবি ওকোওয়া।
তাঁদের মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি।
দুই জাতিসংঘ সংস্থা প্রথমে চারজন প্রার্থীর বিষয়ে একমত হলেও পঞ্চম আসনটি পূরণ করতে পারেনি। নিরাপত্তা পরিষদ ইকুয়েডরের মার্সেলো ভাসকেস-বারমুডেসকে সমর্থন দিলেও সাধারণ পরিষদ ওকোওয়ার পক্ষে ছিল, ফলে আরও কয়েক দফা ভোটাভুটি করতে হয়।
পরে ভাসকেস-বারমুদেস প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান এবং ওকোওয়া শেষ পর্যন্ত সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদ—দুই জায়গারই সমর্থন পান।
ভোটগুলো গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হয়, একই সময়ে হলেও পৃথকভাবে।
আইসিজের সদর দপ্তর হেগে। আদালতে ১৫ জন বিচারক থাকেন, প্রত্যেকে আলাদা দেশ থেকে আসেন। তাঁরা নয় বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন এবং পুনর্নির্বাচিত হতে পারেন। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতি তিন বছর অন্তর বেঞ্চের এক-তৃতীয়াংশ নির্বাচিত হয়।
রেকর্ড কর্মভারের মুখে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আইসিজের প্রেসিডেন্ট ইউজি ইওয়াসাওয়া ২৯ অক্টোবর সাধারণ পরিষদকে জানান, ২৪টি বিরোধপূর্ণ মামলা বিচারাধীন আছে, যেগুলোতে ভূখণ্ড, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক চুক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে বিরোধ জড়িত।
এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রার মামলা—যেখানে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত এর আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার নির্দেশ দিলেও গণহত্যা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়নি।
২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালত একটি উপদেশমূলক মতামত দেয়, যেখানে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কর্মরত জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতি ইসরায়েলের বাধ্যবাধকতার রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া আদালত মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে, রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর দেওয়া হবে।
১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিজে জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক অঙ্গ। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে উপদেশমূলক মতামত দেওয়া এর দায়িত্ব।


