সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে হাইকোর্টের আদেশের ১৫ দিন পরও খোলেনি ২৮ প্লটের তালা, মালিকদের মানববন্ধন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮টি প্লটের তালা খুলে দেওয়ার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। হাইকোর্টের আদেশ জারির ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বৈধ প্লটমালিকেরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা প্লটগুলো দখলে রেখে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন। এর ফলে নিজ কেনা জমিতে প্রবেশ কিংবা বসতবাড়ি নির্মাণ করতে পারছেন না তারা।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং জমিতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সম্প্রতি আলীনগর এলাকায় আয়োজিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানান ভুক্তভোগী প্লটমালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্লটমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে দীর্ঘদিন ধরেই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে জটিলতা চলছে। এর মধ্যে আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে ২৮টি প্লটের তালা খোলা এবং প্রকৃত মালিকদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ক্ষুব্ধ প্লটমালিকদের দাবি, তারা সম্পূর্ণ বৈধ দলিলের মাধ্যমে এসব জমির মালিকানা অর্জন করেছেন। অথচ প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের নিজ জমিতে প্রবেশ ও বসতবাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত ওই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে একপর্যায়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এ নিয়ে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুবেল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি ভুক্তভোগীদের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করার পরামর্শ দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
এ বিষয়ে জানতে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন, বিষয়টি নিয়ে অবগত নন। পরে তিনি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


