ফ্লোরিডার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হচ্ছেন ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস

রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পরবর্তী গভর্নর হতে যাচ্ছেন। ডেমোক্র্যাট ডেভিড জলিকে হারিয়ে তিনি রাজ্যটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নেতা হচ্ছেন।
দেশটির সবচেয়ে নজরকাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনী লড়াইগুলোর একটি ছিল ফ্লোরিডার এই গভর্নর প্রতিযোগিতা। দুই দলই এই লড়াইকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল।
ডোনাল্ডস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দুটি সমাবেশে অংশ নেন, যদিও এর আগে তিনি নিজেকে কিছুটা দূরে রাখছেন বলে মনে হয়েছিল।
ডোনাল্ডস দায়িত্ব নেবেন রন ডিস্যান্টিসের কাছ থেকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডিস্যান্টিস মেয়াদ শেষ হওয়ায় জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়বেন।
ডিস্যান্টিসের আট বছরের নেতৃত্বের পর এই প্রতিযোগিতাকে দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেছে এবং প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় ভারী নামগুলোকে ফ্লোরিডায় পাঠিয়েছে।
ট্রাম্প ফোর্ট মায়ার্স ও ডেটোনা বিচে ডোনাল্ডসের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করেছেন। ইরান যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রতি দেশজোড়া অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও এই সমর্থন এসেছে, যে অসন্তোষ রাজ্যে ট্রাম্পের আগের শক্ত সমর্থনেও চাপ তৈরি করেছিল। ট্রাম্প এই রাজ্যে তিনবার জিতেছিলেন।
জলির পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, যিনি একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন এবং সেই অনুষ্ঠান থেকে জলির প্রচারণায় ৩০ লাখ ডলার সংগৃহীত হয়। বারাক ওবামাও জলিকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
দুই পক্ষের যুক্তির কেন্দ্রে ছিল ডিস্যান্টিসের উত্তরাধিকার। ডিস্যান্টিস তার গভর্নর মেয়াদের বড় অংশজুড়ে সাংস্কৃতিক যুদ্ধের ইস্যুতে মনোযোগ দিয়েছেন, যার মধ্যে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ, উচ্চশিক্ষা পুনর্গঠন এবং ট্রাম্পের কঠোর দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসন দমন অভিযান কার্যকর করা ছিল।
ডোনাল্ডস বিদায়ী গভর্নরের সমর্থনকে তুলে ধরে তার প্রচারণাকে ‘ডিস্যান্টিস যুগের সাফল্যের ধারাবাহিকতা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, জলি ডিস্যান্টিস যা গড়েছেন তা ধ্বংস করতে চাইছেন।
জলি অন্যদিকে ফ্লোরিডায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যার মধ্যে আবাসন ও সম্পত্তি বিমার খরচের ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। গত সপ্তাহে টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমের বিজ্ঞাপনে তার শেষ আবেদন ছিল, ‘আমি খরচ কমাতে লড়ব, এবং সবসময় আপনাদেরই প্রথমে রাখব।’
নতুন গভর্নর একটি বিভক্ত রাজ্যের দায়িত্ব পাচ্ছেন, যেখানে সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেক মানুষকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করেছে। সেপ্টেম্বরের একটি জরিপে প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা অর্থনৈতিক চাপ ও আবাসনের সাশ্রয়যোগ্যতাকে তাদের শীর্ষ উদ্বেগ বলে উল্লেখ করেছেন।
রাজ্যের আইনসভার গঠনও নতুন নেতৃত্বের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের অতিসংখ্যাগরিষ্ঠতা ডিস্যান্টিসের প্রায় প্রতিটি উদ্যোগে কার্যত সায় দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছে। তবে রিপাবলিকান হাউস ও সিনেট নেতারা আরও স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছেন।




