মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, হাউসে ৯৮ আসনে জয়

যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশটির কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।
এই নির্বাচনে সরাসরি প্রেসিডেন্ট বদল হয় না, তবে আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নে ভোটের ফলাফল অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোটের পর ফলাফল আসতে শুরু করেছে এবং প্রাথমিক ফলে ডেমোক্রেটিক পার্টির এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে এককভাবে সব ক্ষমতা নেই। রাষ্ট্র পরিচালনা, আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, সামরিক ব্যয় এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দেশটির আইনসভা কংগ্রেস।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিম্নকক্ষের সবকটি অর্থাৎ ৪৩৫টি আসনেই ভোট গ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনি ফলাফলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত ৯৮টি আসনে জয়লাভ করেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ৫২টি আসন।
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ২১৮টি আসন।
অপরদিকে উচ্চকক্ষের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে সিনেটে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে এখন পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টি ৪৫টি আসন ও রিপাবলিকান পার্টি ৩৬টি আসন পেয়েছে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৫১টি আসন দরকার।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যদের মেয়াদ মাত্র দুই বছর, আর উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্যরা নির্বাচিত হন ছয় বছরের জন্য।
বর্তমানে হোয়াইট হাউসের পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষই ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতার ওপর একটি নতুন আইনি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাতে পারে।
কংগ্রেসে যদি রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য নতুন আইন পাস, বাজেট অনুমোদন, শুল্ক নীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিরোধী দলের বাধার মুখোমুখি হতে হবে।
এবারের নির্বাচন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, দেশটি যুদ্ধে জড়িত এবং ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের সময়ও কমে আসছে। ফলে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর আগামী দুই বছরের আইন প্রণয়ন ও সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করবে।




