ওহাইওতে সিনেট আসন ফিরে পেলেন ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন, হারলেন রিপাবলিকান হাস্টেড

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন। ভোটাররা বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে প্রত্যাখ্যান করায় রিপাবলিকানদের জন্য এটি একটি বড় পরাজয়।
২০২৪ সালে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হেরে ১৮ বছর ধরে ধরে রাখা আসনটি হারিয়েছিলেন ব্রাউন। দুই বছর পর সেই আসনেই ফিরে আসার তাঁর এই প্রচেষ্টা এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি হয়ে ওঠে। এটিকে শ্রমজীবী ও গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থন ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছিল।
ব্রাউনের এই জয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পথে আরও এগিয়ে গেল ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের জর্জিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও মিনেসোটায় নিজেদের দখলে থাকা আসনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি আরও অন্তত চারটি আসনে জিততে হবে।
ওহাইওর এই লড়াইটি ছিল বিশেষ ধরনের। ২০২২ সালে জেডি ভ্যান্স যে মেয়াদের জন্য জিতেছিলেন, তার শেষ দুই বছর কে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণের জন্য এটি ছিল একটি বিশেষ নির্বাচন। ভ্যান্স ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০২৫ সালে ওহাইওর রিপাবলিকান গভর্নর তখনকার লেফটেন্যান্ট গভর্নর হাস্টেডকে সিনেটে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ২০২৮ সালের পর মেয়াদ শেষ হলে ব্রাউনকে আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সিনেটে কাটানো দুই বছরে হাস্টেড ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে লেগে ছিলেন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি ও ট্রাম্পের আগ্রাসী অভিবাসন নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন তলানিতে গিয়ে ঠেকলেও তিনি কদাচিৎ ট্রাম্পের সঙ্গে মতভিন্নতা প্রকাশ করেছেন।
ব্রাউন তাঁর প্রচারণার কেন্দ্রে রেখেছিলেন শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ, প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং ডেটা সেন্টার নির্মাণের কঠোর সমালোচনা করেন।
ডেটা সেন্টার ইস্যুটি দেশজুড়ে নানা আসনের লড়াইয়ে বিশেষভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। অনেক ডেমোক্র্যাটের অভিযোগ, তাঁদের রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীরা এমন একটি শিল্পের পকেটে রয়েছেন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের সঙ্গে ব্যাপকভাবে বেড়েছে, কিন্তু ভোক্তাদের বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দিয়েছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষতি করেছে।
হাস্টেড ওহাইওর লেফটেন্যান্ট গভর্নর থাকাকালে এসব নতুন ডেটা সেন্টার গড়ে ওঠাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। প্রচারণায় ব্রাউন তাঁকে ‘ডেটা সেন্টারের মুখ’ বলে অভিহিত করেন।
নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে হাস্টেড সিনেটে ‘রেটপেয়ার প্রটেকশন অ্যাক্ট’ পাসের চেষ্টা করেছিলেন। এই আইনে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর ডেটা সেন্টারের প্রভাবের খরচ যাতে সেগুলোকেই বহন করতে হয়, সেরকম নিয়ম বিবেচনা করতে ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করার বিধান ছিল। প্রায় সর্বসম্মত সমর্থন নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও সিনেট ডেমোক্র্যাটরা আইনটি আটকে দেন।



