ভোলার ইলিশায় পাচার সন্দেহে ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, গোডাউন সিলগালা

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চর ইলিশা গ্রামে পাচার সন্দেহে ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দারগার খাল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে গোডাউনটি সিলগালা করে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, রাতে দারগার খাল এলাকা দিয়ে নৌকায় করে সার নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে এলাকার লোকজন একটি ট্রলার ও একটি নসিমন ঘিরে ফেলেন। তল্লাশি চালিয়ে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের ২৯০ বস্তা টিএসপি ও ডিএপি সার পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা এই সার চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নদীপথে জেলার বাইরে পাচার করা হচ্ছিল। মাঠপর্যায়ে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডিলারদের একটি সিন্ডিকেট বেশি মুনাফায় সার বাইরে পাচার করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
ঘটনাস্থলে ট্রলারের মাঝি শহীদের কাছ থেকে স্থানীয়রা একটি রসিদ উদ্ধার করেন। রসিদে ৮০ বস্তা ডিএপি সারের মূল্য প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা করে মোট ৮৪ হাজার টাকা উল্লেখ ছিল। রসিদের এই গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন বলেন, ৮০ বস্তার রসিদ থাকলে বাকি ২১০ বস্তা সার কোথা থেকে এলো।
কৃষক মাকসুদ অভিযোগ করেন, ডিলাররা কৃষকদের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সার উত্তোলন করেন এবং চড়া দামে বিক্রির জন্য তা বাইরে পাচার করেন। এতে ভোলার সাধারণ কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না এবং ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে আটক ট্রলারের মাঝি শহীদের দাবি, চর ইলিশা গ্রামের রফিক মাঝি ও মন্নান বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্স থেকে সারগুলো কিনেছেন। ভোলার বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পাঠানোর জন্যই সেগুলো নেওয়া হচ্ছিল, জেলার বাইরে পাচারের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কৃষক রফিকও একই দাবি করেন, তবে সার কেনার বৈধ ও সম্পূর্ণ মূল্য রসিদ তিনি দেখাতে পারেননি। অভিযুক্ত ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে ইলিশা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সার উদ্ধার করেন।
ইউএনও সজল কুমার দাস বলেন, সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে কেউ দেখাতে পারেনি। এ কারণে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সারগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউনে রাখা হয়েছে এবং গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, ডিলার পয়েন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া ও বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য চরাঞ্চলে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের উদ্দেশ্যে সারগুলো নেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধভাবে বা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সার পাচার ও অবৈধ মজুদের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।



