…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › কৃষি › খবর
কৃষি

লবণাক্ত জমিতেও বেশি ফলনের নতুন জাত ‘ব্রি ধান ১১৯’ অনুমোদন পেল, গড় ফলন হেক্টরে ৫ দশমিক ৭ টন

নিজস্ব প্রতিবেদক
লবণাক্ত জমিতেও বেশি ফলনের নতুন জাত ‘ব্রি ধান ১১৯’ অনুমোদন পেল, গড় ফলন হেক্টরে ৫ দশমিক ৭ টন
ছবি: সংগৃহীত

লবণাক্ততাপ্রবণ উপকূলীয় অঞ্চলে ধান উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত নতুন জাত ‘ব্রি ধান ১১৯’। রোপা আমন মৌসুমে চাষের জন্য জাতটিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড।

ব্রি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৬তম সভায় ‘ব্রি ধান ১১৯’ রোপা আমন মৌসুমে চাষের অনুমোদন পায়। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রির প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আল-আমিন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, উপযুক্ত পরিচর্যায় ব্রি ধান ১১৯-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৫ দশমিক ৭ টন। পরিবেশ ও মাটির লবণাক্ততার মাত্রাভেদে ফলন ৪ দশমিক ৮ থেকে ৭ দশমিক ৬ টন পর্যন্ত হতে পারে। প্রচলিত ব্রি ধান৭৩-এর তুলনায় নতুন জাতটি হেক্টরপ্রতি প্রায় এক টন বেশি ফলন দিতে সক্ষম।

জাতটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো—উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকার পাশাপাশি দেশের অলবণাক্ত অঞ্চলগুলোতেও এটি চাষ করা যাবে। এর জীবনকাল প্রায় ১১৫ দিন। ফলে আমন ধান কাটার পর একই জমিতে সূর্যমুখী ও সরিষার মতো রবি ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হবে।

ব্রি ধান ১১৯ উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের একটি গবেষক দল। এ দলের নেতৃত্ব দেন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ এখলাছুর রহমান। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন, সিনিয়র প্ল্যান্ট ব্রিডার নুসরাত জাহান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরমিন আক্তার সেতু এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিআরসিআইএল) রিবেত ফারজানা দিশা। স্থানভিত্তিক জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে পরিচালিত লোকেশন স্পেসিফিক টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে এই গবেষণা সম্পন্ন হয়।

গবেষকদের তথ্যমতে, ধানের চারা থেকে শুরু করে বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে লবণাক্ততা সহ্য করার সক্ষমতা রয়েছে জাতটির। চারা অবস্থায় টানা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ১২ ডেসিসিমেন্স/মিটার মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এটি। অন্যদিকে অঙ্গজ বৃদ্ধি থেকে প্রজনন পর্যায়ের সংবেদনশীল ধাপগুলোতেও ৮ থেকে ১০ ডেসিসিমেন্স/মিটার মাত্রার লবণাক্ততায় ফলন দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

ধানগাছের গড় উচ্চতা ১১৩ সেন্টিমিটার। গাছের কাণ্ড শক্ত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। প্রতিটি শীষে গড়ে ২১৫টি পুষ্ট ধান পাওয়া যায়, যা ব্রি ধান৭৩-এর তুলনায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বেশি। এছাড়া শীষ থেকে ধান সহজে ঝরে পড়ে না।

নতুন এই জাতের ধানের চাল মাঝারি চিকন ও সাদা। রান্নার পর ভাত ঝরঝরে হয়। এতে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, স্বল্প জীবনকালের কারণে ব্রি ধান১১৯ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রচলিত শস্যবিন্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আমন ধান কাটার পর মধ্যম উঁচু থেকে উঁচু জমিতে সূর্যমুখী ও লবণসহিষ্ণু সরিষা চাষ করা সম্ভব হবে। এতে একই জমি থেকে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

শুধু আমন নয়, বোরো মৌসুমেও জাতটির উপযোগিতা যাচাই করা হয়েছে। বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ২০টি স্থানে লবণাক্ত ও অলবণাক্ত পরিবেশে এর ফলন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বোরো মৌসুমে চাষের জন্য জাতীয় কারিগরি কমিটির সুপারিশও পাওয়া গেছে। আমন ও বোরো—দুই মৌসুমেই জাতটি চাষ করা সম্ভব হবে।

ব্রি ধান১১৯ চাষের জন্য গবেষকরা রোপা আমন মৌসুমে ১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বীজ বপনের পরামর্শ দিয়েছেন। ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সী চারা প্রতি গোছায় দুই থেকে তিনটি করে রোপণ করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার এবং গোছা থেকে গোছার দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার রাখতে হবে। এই জাতের জন্য মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমি বেশি উপযোগী।

ব্রির মহাপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ব্রি ধান১১৯ উদ্ভাবন দেশের কৃষি গবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। জাতটি লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের ধান উৎপাদনে সহায়তা করার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গবেষক দলের প্রধান মোহাম্মদ এখলাছুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘ গবেষণার প্রতিটি পর্যায়ে তাঁদের দল নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে। কৃষকের মাঠে এই জাতের সুফল দেখতে পাওয়াই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

কৃষি বিভাগের আরও খবর

রাঙামাটির সাজেকে অবরোধে বাজারে যেতে পারছেন না কৃষক, গাছে পেকে নষ্ট হচ্ছে কলা-পেঁপেসহ ফল-ফসল
কৃষি

রাঙামাটির সাজেকে অবরোধে বাজারে যেতে পারছেন না কৃষক, গাছে পেকে নষ্ট হচ্ছে কলা-পেঁপেসহ ফল-ফসল

রাঙামাটির সাজেকে টানা সড়ক অবরোধে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কলা, পেঁপে, আখ, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া ও বিভিন্ন …

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের ভরা মৌসুমে সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা
কৃষি

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের ভরা মৌসুমে সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের ভরা মৌসুমে সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কাছে চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না সার। তাই খোলাবাজারে সার বিক্…

শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
কৃষি

শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয…