ওহাইওতে কংগ্রেসের আসন হারালেন ট্রাম্প-সমর্থিত ম্যাক্স মিলার, জিতলেন ডেমোক্র্যাট পয়েনডেক্সটার

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে কংগ্রেসের আসন হারিয়েছেন রিপাবলিকান ম্যাক্স মিলার। তার বিরুদ্ধে ওঠা পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ডেমোক্র্যাট ব্রায়ান পয়েনডেক্সটার জয় পেয়েছেন; আগামী বছর কংগ্রেসে যাচ্ছেন তিনি। মিলারকে সমর্থন দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পয়েনডেক্সটার একজন আয়রনওয়ার্কার। তিনি আয়রনওয়ার্কার্স লোকাল ১৭-এ শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং শ্রমিক সংগঠক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন। তার বাবা ছিলেন যন্ত্রশিল্পী এবং দাদা ছিলেনসংগঠনভুক্ত অটো শ্রমিক—পারিবারিক এই শ্রমিক পটভূমি তার প্রচারণায় উঠে এসেছে।
মিলারের সাবেক স্ত্রী এমিলি মোরেনো রিপাবলিকান মার্কিন সিনেটর বার্নি মোরেনোর মেয়ে। ২০২২ সালে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্পের ক্লাবে মিলার ও মোরেনোর বিয়ে হয়। মোরেনোর অভিযোগ, মিলার তার মাথায় বন্দুক ধরেছিলেন এবং ফুটন্ত পানি দিয়ে তাকে পুড়িয়েছিলেন। ২০২৩ সালে জন্ম নেওয়া তাদের কন্যাশিশুর কলার বোন ভাঙার পেছনেও মিলারের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিলার নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। ২০২৫ সালে মোরেনো ও মিলারের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে ট্রাম্প মিলারকে সমর্থন দেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ম্যাক্স মিলারের প্রতি পুনর্নির্বাচনে তার সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং ভোটারদের ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি।
২০২৬ সালের আগস্টে সিএনএনের জেক ট্যাপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলার অভিযোগ করেন, তার সাবেক স্ত্রীসহ তিন নারী তার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ নিয়ে মিথ্যা বলছেন।
অক্টোবরের মাঝামাঝি প্রকাশিত প্রচারণা বিজ্ঞাপনে মিলার বলেন, বিবাহবিচ্ছেদ বহু পরিবারের জন্য বেদনাদায়ক বাস্তবতা এবং রাজনীতির কারণে তার পরিবারের এই কষ্ট দুই বছর ধরে জাতীয় সংবাদে এসেছে। অভিযোগগুলো বারবার মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন উল্লেখ করেছে, এই দাবি সত্য নয়; তার মেয়ের কলার বোন ভাঙার তদন্তে মিলার বা অন্য কাউকে দোষী পাওয়া যায়নি এবং পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তই করা হয়নি।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নৈতিকতা কমিটি মিলারের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও মাদক ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করছে।
২০২৬ সালের আগস্টের শুরুতে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সময়সীমার আগে মিলারের পদত্যাগের দাবি ওঠে; সিনেটর মোরেনোও সেই দাবি জানান। মোরেনো লেখেন, নির্বাচিত পদে থাকতে চরিত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড লাগলে মিলার তাতে ব্যর্থ হন এবং তার প্রতিনিধি পরিষদে থাকা উচিত নয়।




