মিশিগানে রিপাবলিকান রজার্সকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন এল-সায়েদ, প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ। তিনিই দেশটির প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই আসনে তার জয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্র্যাটদের সদর দপ্তরে বিজয় ঘোষণা করেন এল-সায়েদ। তিনি বলেন, ভোটাররা তাকে তাদের বাড়িতে, গির্জায় ও সিনাগগে স্বাগত জানিয়েছেন। দেড় বছর ধরে মিশিগানের সবচেয়ে বড় শহর থেকে সবচেয়ে ছোট শহর পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে গড়ে ওঠা আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন তিনি।
৪২ বছর বয়সী এল-সায়েদ সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা; তিনি ওয়েইন কাউন্টি ও ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ পরিচালনা করেছেন। ২০১৮ সালে গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি প্রথম রাজনীতির মঞ্চে আসেন, তবে সেবার সফল হননি।
এল-সায়েদ একক-পরিশোধকারী স্বাস্থ্যসেবা (সবার জন্য মেডিকেয়ার) চালু এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণ ও অনিয়মিত ভোটারদের সংগঠিত করেন। তিনি ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছেন।
বিজয়ী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের করের অর্থ এখানেই ব্যয় হোক — এখানকার স্কুলের জন্য, এখানকার স্বাস্থ্যসেবার জন্য, এখানকার অবকাঠামোর জন্য। আমরা চাই না আমাদের অর্থ বর্ণবাদ, গণহত্যা বা যুদ্ধে পাঠানো হোক।’
প্রাইমারিতে এল-সায়েদ প্রায় ১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেনসকে হারান, যদিও গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার ও বিদায়ী সিনেটর গ্যারি পিটার্সসহ মিশিগানের শীর্ষ নেতারা স্টিভেনসকে সমর্থন দিয়েছিলেন। সাধারণ নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে স্টিভেনস উল্টো রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন।
এল-সায়েদ আসছেন গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হয়ে; পিটার্স ২০১৫ সাল থেকে এই আসনে ছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা ১৯৭৯ সাল থেকে মিশিগানের এই সিনেট আসনটি ধরে রেখেছে।
রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রচারণা চালান। তিনি ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনে এলিসা স্লটকিনের কাছে মাত্র প্রায় ০.৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরেছিলেন। প্রচারণার শেষ সপ্তাহগুলোতে তিনি শুল্কনীতি ও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ইরান যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির প্রশ্নে ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন।
প্রচারণাজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ প্রতিপক্ষরা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্প তাকে ‘কমিউনিস্ট’ ও ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়েছেন এবং মিশরীয় মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও মিথ্যা দাবি করেছেন। এল-সায়েদ বলেন, তার বিরোধীরা বিভাজনের পথ বেছে নিয়েছেন, কারণ গ্যাস ও নিত্যপণ্যের দামের প্রশ্নে তাদের কাছে কোনো জবাব নেই। তিনি বলেন, ‘তারা এমন আমেরিকা চায়, যা আমাদের কারও কারও জন্য খুবই ছোট। আমরা জানি, আমেরিকা আমাদের সবার জন্যই যথেষ্ট বড়।’
ইসরায়েলপন্থী লবি আইপ্যাক তার সুপার প্যাক ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রাইমারিতে এল-সায়েদকে ঠেকাতে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে, যা কোনো একক আসনের ক্ষেত্রে রেকর্ড। অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ দুই পক্ষ মিলে সাধারণ নির্বাচনে মোট ২২ কোটি ডলারের বেশি বিজ্ঞাপনী ব্যয় করেছিল বলে অ্যাডইমপ্যাক্ট জানিয়েছে।
আগস্টে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, মিশিগানের ৫৪ শতাংশ ভোটার এল-সায়েদের অবস্থানকে অতিমাত্রায় চরম মনে করেন; তবে ৫১ শতাংশ ভোটার রজার্সকে ট্রাম্পের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ বলেও মনে করেছিলেন।
এল-সায়েদের এই জয় মঙ্গলবার সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বাড়িয়ে দিল।




