সাভার-আশুলিয়ায় প্রায় শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ, বহিরাগতদের ইন্ধনের কথা বলল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে প্রায় শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে।
সকালে কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলেও পরে বহিরাগতদের ইন্ধনে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন।
দীর্ঘ সময় কাজ না হওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়। এরপর শ্রমিকেরা ধীরে ধীরে কারখানা থেকে বের হয়ে চলে যান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ ঢাকার আওতাধীন সব এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও যান চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই এবং গার্মেন্টস এলাকাগুলোর পরিবেশও শান্ত রয়েছে।
আজ সকালে সব গার্মেন্টস কারখানায় কাজ শুরু হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকরাও কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে অন্য এলাকা থেকে আসা কিছু বহিরাগত লোকজনের ইন্ধনে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন।
সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টার বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আজ সাভার এলাকায় আল মুসলিম কারখানা থেকে পদ্মার মোড় পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। তবে দ্রুততম সময়ে সড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে এসপি মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ঢাকা জেলা পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি আজকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে।
পিকেটিংয়ের সময় একজনকে আটকের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকায় পিকেটিংয়ের সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে আশুলিয়া থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাঁর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
কারখানা বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, সকালে পরিস্থিতি বেশ ভালো ছিল, কারখানাগুলোতে কার্যক্রম চলছিল এবং উৎপাদনও স্বাভাবিক ছিল। তবে এই মুহূর্তে প্রায় শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং এই এলাকাটি তুলনামূলক বেশি প্রভাবিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় কোথাও কোনো সহিংসতা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিকেরা কাজ না করায় কারখানাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আগুন দেওয়ার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনি সেখানে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তাঁর জানা মতে, নাশকতাকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে ঢাকা জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে — তাঁরা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিরাপদে আছেন এবং তাঁর কোনো ক্ষতি হয়নি।




