…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › ভ্রমণ › খবর
ভ্রমণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিনের পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যাল শুরু, চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিনের পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যাল শুরু, চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত
ছবি: সংগৃহীত

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী চতুর্থ ‘পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। আয়োজনটি চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। কেক কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

উদ্বোধনের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মেলায় পর্যটন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। এতে রয়েছে বাহারি খাবারের স্টল, দেশীয় হস্তশিল্প, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে মেলা চলবে।

চার দিনের এই আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলকাপ, গম্ভীরা, সংগীতানুষ্ঠান এবং আরইউ ড্যান্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা থাকছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) সিইও ব্যারিস্টার মোনতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, “পর্যটন বিভাগে কেউ বেকার থাকে না। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। ট্যুর গাইড, মেন্টর, ট্যুর অপারেটর ও হসপিটালিটি অপারেটর হিসেবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এজন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেসব স্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে।” বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং এ ধরনের উদ্যোগে ট্যুরিজম বোর্ড সবসময় পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ পায়। পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখতে চায় বলেও তিনি জানান।

সমাপনী বক্তব্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি ড. মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ট্যুর গাইড, ট্যুর অপারেটর, হসপিটালিটি ব্যবস্থাপক ও পর্যটন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে।”

অনুষ্ঠানে বিভাগের সভাপতি ড. মো. মাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মোনতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিবির পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) কোষাধ্যক্ষ (অব.) অধ্যাপক মতিয়ার রহমান।

ভ্রমণ বিভাগের আরও খবর

ভ্রমণ

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে জটিলতায় ১৭১ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ২৩ হাজারের বেশি যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার কারণে এ পর্যন্ত ১৭১টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২৩ হাজার ৭৭ জন যাত্র…

শরতের ছুটিতে সাইকেলে নেদারল্যান্ডসের ভেলুভে: বন, হরিণ আর ভ্যান গঘের শিল্পকর্ম
ভ্রমণ

শরতের ছুটিতে সাইকেলে নেদারল্যান্ডসের ভেলুভে: বন, হরিণ আর ভ্যান গঘের শিল্পকর্ম

শরতের রোদ মেখে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, দূরে বালিয়াড়ি, কোথাও পাইনবনের আঁকাবাঁকা পথ। চারপাশে ঝরে পড়া পাতার মচমচে শব্দ। কখনো চোখে পড়ছে হরিণ, কখনও কাঠঠোকরা…