ম্যাচে সংঘর্ষে স্ট্রাইকার দে মিগুয়েলের মৃত্যু, ‘জীবনের কঠিনতম দিন’ বললেন গোলরক্ষক ওওনো
স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে সংঘর্ষে আহত হয়ে তেনেরিফে স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগুয়েলের মৃত্যুর পর এফসি আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনো বলেছেন, তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলো পার করছেন। সোমবারের ম্যাচে এই গোলরক্ষকের সঙ্গেই সংঘর্ষ হয়েছিল দে মিগুয়েলের।
৩০ বছর বয়সী স্প্যানিশ ফুটবলার দে মিগুয়েল মঙ্গলবার মারা যান। ইকুয়েটোরিয়াল গিনির জাতীয় দলের খেলোয়াড় ওওনো বাতাসে থাকা বল ক্লিয়ার করতে মাঝমাঠ পর্যন্ত দৌড়ে এসেছিলেন; সেই সংঘর্ষেই আঘাত পান দে মিগুয়েল।
বুধবার তাঁর ক্লাব আন্দোরার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওওনো বলেন, ‘এগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন। কথা খুঁজে পেতে আমার কষ্ট হচ্ছে, এবং যা ঘটেছে তা প্রক্রিয়া করা আমার জন্য খুব কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘হেসুসের মৃত্যুতে আমি অপরিসীম বেদনা অনুভব করছি। আমি তাঁর কথা, তাঁর পরিবারের কথা এবং তাঁকে ভালোবাসতেন এমন সব মানুষের কথা ভাবছি।’
ওওনো আরও বলেন, ‘আমি জানি অনেক বিষয় সামলাতে হবে, এবং যা আসবে তা আমি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার সঙ্গে মোকাবিলা করব। কিন্তু সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে হেসুস এবং আমরা যে বেদনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা ছাড়া অন্য কিছু আমি ভাবতে পারছি না। শান্তিতে ঘুমাও, হেসুস।’
স্প্যানিশ পুলিশের সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, যা ঘটেছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তা বিচারিক তত্ত্বাবধানে চলছে।
বুধবার স্বেচ্ছামূলক প্রশিক্ষণ সেশনের আগে আন্দোরার খেলোয়াড়রা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। ২৫ বছর বয়সী ওওনো সেই সেশনে উপস্থিত ছিলেন না।
দে মিগুয়েলের মৃত্যুর পর শোকবার্তার চিঠিতে ওওনোকে সমর্থন জানিয়েছেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ভেনানসিও তোমাস নদং মিচা। তিনি লিখেছেন, এই সময়ে তাঁদের খেলোয়াড় হেসুস লাজারো ওওনোর প্রতি সব সংহতি ও সমর্থন জানাতে তিনি বাধ্য বোধ করছেন। অনিচ্ছাকৃতভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনার কেন্দ্রে থাকা ওওনো গভীর শোক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি লিখেছেন এবং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাঁকে সব মানবিক ও পেশাদার সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আন্দোরার ডিফেন্ডার লাউতারো স্পাৎজ সামাজিক মাধ্যমে ওওনোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, ওওনো ঘটনাটিতে গভীরভাবে প্রভাবিত। যাঁরা তাঁকে চেনেন তাঁরা জানেন তিনি কেমন মানুষ, এই মুহূর্তে তিনি কতটা কষ্ট পাচ্ছেন এবং তিনি কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করতেন না বলে স্পাৎজ লিখেছেন। ফুটবলে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু সেগুলোর কোনো একটির এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে তা কেউ কল্পনা করতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার আগেই নিশ্চিত করা হয়, সপ্তাহান্তে তেনেরিফে ও আন্দোরার স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচগুলো স্থগিত করা হয়েছে। তেনেরিফের গ্রানাদার মাঠে খেলার কথা ছিল, আর আন্দোরার ঘরের মাঠে মায়োর্কাকে আতিথ্য দেওয়ার কথা ছিল। গ্রানাদা এক বিবৃতিতে জানায়, তেনেরিফে খেলোয়াড় হেসুস দে মিগুয়েলের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবরের পর শনিবার ৭ নভেম্বর নুয়েভো লস কারমেনেস স্টেডিয়ামের ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে। মায়োর্কা বলেছে, এমন সময়ে গভীর শোকের পরিস্থিতিতে শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতাই সবার আগে আসতে হবে।
দে মিগুয়েলের মৃত্যুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এই সপ্তাহের সব কোপা দেল রে ও কোপা দে লা রেইনা ম্যাচ স্থগিত করেছে।
তেনেরিফে শনিবার ক্লাবের স্টেডিয়ামে দে মিগুয়েলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন করবে, যেখানে সমর্থকেরা উপস্থিত থাকতে পারবেন, এবং ক্লাব ছয় দিনের শোক পালন করছে। ক্লাব জানিয়েছে, প্রথম দল, বোর্ড ও কর্মীরা দে মিগুয়েলের শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকবেন। শেষকৃত্য হবে মূল ভূখণ্ডের তোলেদো প্রদেশের নাভাহেরমোসায়, যেখানে তাঁর পারিবারিক শিকড় রয়েছে।
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচগুলোর আগে স্ট্রাইকারের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার আয়োজনে সপ্তাহের বাকি ম্যাচগুলোতেও একই আয়োজন থাকবে।

