বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, অভিবাসন মানে কেবল বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা। তিনি বলেন, এই রেমিট্যান্সের পেছনে লুকিয়ে আছে সাধারণ নাগরিকদের কষ্ট ও সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা।
আজ বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অভিবাসন, অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক ককাসের উদ্বোধন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সচেতন হতে হবে। নারী শ্রমিকদের অভিবাসন গন্তব্যে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রচলিত আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে অভিবাসন নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অভিবাসন গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আলোচনা করতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
স্পিকার বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে বিদেশে কর্মী প্রেরণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। শ্রমিক প্রেরণে অব্যবস্থাপনা এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে বিগত বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাস কর্মী প্রেরণ বন্ধ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই সর্বদলীয় ককাসের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা বিদেশে কর্মী প্রেরণে সহায়তা করবেন এবং সরাসরি মাঠপর্যায়ে অভিবাসন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন তদারকি করবেন।
অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতির চালিকাশক্তি। প্রবাসী শ্রমিকেরা অভিবাসন গন্তব্যে দীর্ঘ মেয়াদে নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়ে আসছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। সংসদীয় ককাসের সভাপতি এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং ককাস সচিবালয়ের সভাপতি সৈয়দ সাইফুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন ককাসের মহাসচিব মাহমুদা হাবিবা।
প্যানেল আলোচকেরা প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন এবং মনোসামাজিক ও আর্থসামাজিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মানবপাচার বন্ধে সরকারের অভিবাসন নীতির প্রয়োগের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।




