ইইউ সীমান্ত সংস্থা ফ্রনটেক্সের ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনায় মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্নের শঙ্কা এমইপিদের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রনটেক্সের ম্যান্ডেট সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা (এমইপি)। নতুন ম্যান্ডেটের আওতায় ফ্রনটেক্স প্রত্যাবাসন কেন্দ্রগুলোতে এবং সেখান থেকে নির্বাসনে সহায়তা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কমিশনার।
গত সপ্তাহে অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ফ্রনটেক্সের এক ব্যাপক সংস্কারের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এর আওতায় সংস্থাটি কৌশলগত পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সাশ্রয়ী প্রত্যাবাসনের জন্য সম্পদ একত্র করা এবং পুনর্বাসন সহায়তা পর্যন্ত সবকিছুর দায়িত্বে থাকবে — এমনকি ইইউর বাইরের দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ড থেকে নির্বাসনেও সহায়তা করতে পারবে।
বুধবার ব্রুনার সিভিল লিবার্টিজ, জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির এমইপিদের সামনে এসব পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত সদস্য রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষই নেবে, তবে ইইউ সীমান্ত সংস্থা 'শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, এ থেকে জেড পর্যন্ত প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য দায়বদ্ধ' থাকবে।
কমিশনের পরিকল্পনার আওতায় ফ্রনটেক্স ইইউ দেশগুলো থেকে ব্লকের বাইরের দেশগুলোর কেন্দ্রগুলোতে এবং সেই কেন্দ্রগুলো থেকে তৃতীয় দেশে লোকজনকে নির্বাসনেও সহায়তা করতে পারবে বলে নিশ্চিত করেছেন কমিশনার।
মধ্যপন্থী ও বামপন্থী আইনপ্রণেতারা বলেছেন, সম্প্রসারিত ম্যান্ডেট ও পরিধির সঙ্গে মৌলিক অধিকারের আরও বড় ঝুঁকি আসতে পারে বলে তাঁরা উদ্বিগ্ন। গ্রিনস দলের ডাচ এমইপি তিনেকে স্ট্রিক কমিশনারকে প্রশ্ন করেন, 'ফ্রনটেক্সকে যখন তৃতীয় দেশের আইন মানতে হবে, যেখানে আইনি কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন, তখন আমরা কীভাবে নিশ্চয়তা দেব যে তারা ইইউ আইন মেনে চলবে?' তিনি আরও বলেন, 'আমি সত্যিই মনে করি, এই পদ্ধতি স্পষ্টভাবে আরও বেশি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করবে।'
ফ্রান্সের সোশ্যালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস এমইপি মুরিয়েল লরাঁ প্রশ্ন করেন, 'ইউরোপ কতটা পর্যন্ত তার অভিবাসন নীতি বাইরে ঠেলে দিতে পারে, একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষার নীতিও বাইরে ঠেলে দিতে পারে?' তিনি সতর্ক করে বলেন, 'আরও শক্তিশালী একটি ইইউ সংস্থা মানে এমন একটি সংস্থা, যার ওপর আরও যত্নশীল নজরদারিও থাকা উচিত।'
তবে ব্রুনার জোর দিয়ে বলেন, ফ্রনটেক্সকে ইতিমধ্যে কঠোর মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা মানতে হয় এবং কমিশনের পরিকল্পনার আওতায় সেগুলো বহাল থাকবে। তিনি বলেন, মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিধান রাখা আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায়ই কেবল ফ্রনটেক্স ইইউর বাইরের দেশগুলোকে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করবে। যেকোনো এমন চুক্তিতে পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগবে বলেও জানান তিনি।




