যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে হারলেন পাঁচ ‘নির্বাচন অস্বীকারকারী’ রিপাবলিকান
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর পাঁচটি শীর্ষ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে হেরেছেন পাঁচজন রিপাবলিকান ‘নির্বাচন অস্বীকারকারী’ প্রার্থী। রাজ্য পর্যায়ের নেতারা নির্বাচন পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পারেন, ফলে এই ফলের তাৎপর্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবারের ভোটে অ্যারিজোনায় কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি বিগস, মিশিগানে কংগ্রেস সদস্য জন জেমস, পেনসিলভানিয়ায় রাজ্যের কোষাধ্যক্ষ স্টেসি গ্যারিটি এবং উইসকনসিনে কংগ্রেস সদস্য টম টিফানি গভর্নর পদে হেরেছেন। হেরেছেন জর্জিয়ার ধনকুবের রিক জ্যাকসনও—যে রাজ্যটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার কেন্দ্রে ছিল।
পাঁচ প্রার্থীর সবাই হয় ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিপক্ষে জো বাইডেনের জয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, নয়তো সেই ফল আটকে দিতে ভোট দিয়েছিলেন।
জ্যাকসন বাইডেনের জয়কে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলেছিলেন এবং অতিরিক্ত ভোট ‘খুঁজে দেওয়ার’ ট্রাম্পের দাবি না মানায় জর্জিয়ার রাজ্য কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেছিলেন। এ বছর এক প্রচার অনুষ্ঠানে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের লোকেরাই সত্যিই আমাদের হতাশ করেছে।’
২০২১ সালের জানুয়ারিতে বিগস ও টিফানি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে ২০২০ সালের ফল উল্টে দিতে ভোট দিয়েছিলেন। দুজনেই বাইডেনের জেতা জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনের ফল বাতিল চেয়ে করা একটি মামলায় স্বাক্ষর করেছিলেন।
জেমস ২০২০ সালের ফল প্রত্যয়নের সময় কংগ্রেসে ছিলেন না; সে বছর তিনি সিনেটে ব্যর্থ প্রার্থী হয়েছিলেন এবং পরে ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে জেতেন। সেবছর তিনি বাইডেনের জয় মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু এ বছরের জুনে পডকাস্টার বেনি জনসনকে তিনি বলেন ২০২০ সালের নির্বাচন ‘কারচুপি ও হেরফের’ করা হয়েছিল।
গ্যারিটি ২০২০ সালে বর্তমান পদে নির্বাচিত হন এবং ২০২০ সালের পরাজয় উল্টে দিতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রচারে অংশ নেওয়া ডানপন্থী রাজনীতিকদের একজন ছিলেন। ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে তিনি রাজ্য আইনপ্রণেতাদের ২০২০ সালের ফল বাতিলের আহ্বান জানান। পরদিন ট্রাম্পের সমর্থকেরা মার্কিন ক্যাপিটলে হামলা চালায়।
টিফানি, গ্যারিটি ও জ্যাকসন পরে বিবৃতি দিয়ে বা আগের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বাইডেনের জয় মেনে নিয়েছেন। তবে বিগস ও জেমস এখনো তা করেননি। আল জাজিরা দুজনের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো কোনো জবাব পায়নি।
ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে প্রবেশ করছেন এবং মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী তিনি পুনর্নির্বাচনের অযোগ্য। রিপাবলিকানদের পতাকাবাহী হিসেবে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনের মতো দোদুল্যমান রাজ্যগুলো সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে দুই দলের প্রার্থীর মধ্যেই ঘুরেছে এবং ২০২৮ সালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কিছু অঙ্গরাজ্যে গভর্নররা ভোটাধিকার, নির্বাচন পরিচালনা এবং কংগ্রেসের আসন পুনর্বণ্টনের মতো বিষয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। জর্জিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান কেম্প, যিনি মেয়াদ শেষের কারণে এবার প্রার্থী হতে পারেননি, বুধবার বলেন, তাঁর ডেমোক্র্যাট উত্তরসূরি কেইশা ল্যান্স বটমস শপথ নেওয়ার আগে তিনি রাজ্য আইনসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে কংগ্রেসের মানচিত্র নতুন করে আঁকবেন না।
বছরের পর বছর মার্কিন নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ছড়ানোর পর ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নিতে ‘সম্পূর্ণ ইচ্ছুক’। কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।




